মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ছক কষা হচ্ছিল। তাঁর গতিবিধির খোঁজখবরও নেওয়া হয়! জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পরে সেই তথ্য সামনে এসেছে। বেঙ্গল এসটিএফ বর্ধমান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সপ্তাহান্তে কলকাতা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির বাড়িতে ফেরেন। বাড়ি যাওয়ার ওই পথ মুম্বই রোড এবার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর চলাচলের পথে কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ।
জঙ্গি গ্রেপ্তারের পরই জানা গিয়েছে, তাঁর দায়িত্ব ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর নজর রাখা। সেই কথা জানার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে পুলিশ-প্রশাসনের। কলকাতা থেকে মুম্বই রোড ধরে প্রতি সপ্তাহে বাড়ি ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাতেই তিনি ওই পথে বাড়ি ফেরেন। ওই পথেই আবার কলকাতা ফেরেন। ফলে ওই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশে মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রাপথ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে ব্যবস্থা নিচ্ছে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ। এদিনই এই বিষয়ে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির প্রতিটা মুহূর্তের তথ্য জানানো হবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। সেই বিষয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শুক্রবার বিকেলে গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার অমিত বর্মা জেলার পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মুম্বই রোডের হাওড়ার অংশে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। গ্রামীণ জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ওই অংশে নিবিড়ভাবে রেইকি করা হবে। গুরুত্ব দেওয়া হবে নাকা চেকিংয়ের উপরেও। কোনও গাড়ি সন্দেহজনক মনে হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিড় বা জমায়েত করা যাবে না। ভিড় দেখলেই দ্রুত আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছবেন। দ্রুত সেই ভিড় সরিয়ে ফেলা হবে। গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছেলের উপর এমন জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বাবা শিশির অধিকারী ও মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার। প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী কাঁথির শান্তিকুঞ্জে বসে বড় সাবধানবাণী শোনান। তিনি বলেন, “জানতাম এমনটা হবে। আগেই ভারত সরকারের সিক্রেট সার্ভিস আমাদের সতর্ক করেছিল। বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন জঙ্গি ঢুকেছে। ওরা শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করেছে, তা নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদিজিও টার্গেট। আরও অনেকের ক্ষতি করতে চায় ওরা। জঙ্গিরা হায়নার মতো।”