• ট্রেনেও করা যাবে এক্সেস লাগেজের বুকিং, কী ভাবে মিলবে সুবিধা?
    এই সময় | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: যাত্রী পরিষেবায় আরও এক ধাপ উন্নতি ভারতীয় রেলের। ৩১ জুলাই থেকে কনফার্মড রিজ়ার্ভড টিকিটের যাত্রীরা অনলাইনে এক্সেস লাগেজ বুক করার সুবিধা চালু হয়েছে। এত দিন যাত্রীদের নির্ধারিত সীমার বেশি লাগেজ সঙ্গে নেওয়ার জন্য যাত্রার আগে স্টেশনের পার্সেল বিভাগে গিয়ে আলাদা করে বুকিং করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই ঝক্কি অনেকটাই কমবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

    রেল বোর্ডের নির্দেশে সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস (ক্রিস) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)–এর অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্মে রিজ়ার্ভড টিকিট কাটার সময়েই যাত্রীরা অতিরিক্ত লাগেজ বহনের তথ্য জানাতে পারবেন। তবে এই সুবিধা কেবলমাত্র কনফার্মড রিজ়ার্ভড টিকিট যাঁদের রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং নির্ধারিত ওজনসীমার মধ্যে রিজ়ার্ভড কামরায় বহনযোগ্য ব্যক্তিগত লাগেজের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর হবে।

    টিকিট বুকিংয়ের সময়ে যাত্রী এক্সেস লাগেজের তথ্য দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় ভাবে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বিনামূল্যে বহনযোগ্য লাগেজের সীমা, সর্বোচ্চ অনুমোদিত ওজন, নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা, অতিরিক্ত মাশুল এবং নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে জরিমানার তথ্য দেবে। ফলে যাত্রী আগেই নিজের লাগেজ সংক্রান্ত সব হিসেব জানতে পারবেন।

    রেলের নিয়ম অনুযায়ী এসি ফার্স্ট ক্লাসে ৭০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বিনামূল্যে বহন করা যাবে। অতিরিক্ত মাশুল দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ নেওয়ার অনুমতি মিলবে।

    এসি টু-টিয়ারে বিনামূল্যে ৫০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ১০০ কেজি পর্যন্ত বহন করা যাবে।

    এসি থ্রি-টিয়ার, এসি থ্রি ইকনমি এবং এসি চেয়ার কারে সর্বোচ্চ অনুমোদিত লাগেজের পরিমাণ ৪০ কেজি। এই শ্রেণিগুলিতে সাধারণত অতিরিক্ত লাগেজ বুক করার সুযোগ থাকবে না, কারণ বিনামূল্যের সীমাই সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমার সমান।

    স্লিপারে বিনামূল্যে ৪০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৮০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ নেওয়া যাবে।

    দ্বিতীয় শ্রেণিতে বিনামূল্যে ৩৫ কেজি ও সর্বোচ্চ ৭০ কেজি পর্যন্ত অনুমোদন রয়েছে।

    লাগেজের আয়তন সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে রেল। এসি থ্রি-টিয়ার, এসি থ্রি ইকনমি ও এসি চেয়ার কারে সর্বোচ্চ ৫৫ সেন্টিমিটার×৪৫ সেন্টিমিটার×২২.৫ সেন্টিমিটার মাপের ব্যাগ নেওয়া যাবে। এসি ফার্স্ট ক্লাস, এসি টু-টিয়ার, স্লিপার ও সাধারণ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১০০ সেন্টিমিটার×৬০ সেন্টিমিটার×২৫ সেন্টিমিটার মাপের লাগেজ বহনের অনুমতি থাকবে।

    অতিরিক্ত লাগেজের জন্য স্বাভাবিক লাগেজ ভাড়ার দেড় গুণ মাশুল দিতে হবে। ন্যূনতম মাশুল ৩০ টাকা এবং ১০ কেজির ধাপে হিসেব করা হবে। ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দূরত্ব ধরা হবে ৫০ কিলোমিটার।

    অনলাইন বুকিংয়ের জন্য যাত্রীকে ভারতীয় রেলের পার্সেল পোর্টালে লগ–ইন করে উৎস ও গন্তব্য স্টেশন, ট্রেনের বিবরণ এবং ই-ফরওয়ার্ডিং নোট পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত দিনে লাগেজ ও ই-ফরওয়ার্ডিং নোটের প্রিন্টআউট নিয়ে স্টেশনে জমা দিলে ওজন যাচাইয়ের পরে চূড়ান্ত ভাড়া নেওয়া হবে এবং রেলওয়ে রসিদ (আরআর) দেওয়া হবে। পরে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে লাগেজের অবস্থান জানা যাবে। গন্তব্য স্টেশনে লাগেজ পৌঁছলে এসএমএসের মাধ্যমে যাত্রীকে জানানো হবে এবং মূল রেলওয়ে রসিদ দেখিয়ে লাগেজ সংগ্রহ করা যাবে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে অতিরিক্ত লাগেজ নিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সময় ও হয়রানি—দুটোই কমবে বলেই রেলের আশা।

  • Link to this news (এই সময়)