এই সময়: নথি না দেখেই একটি ফ্ল্যাটের বৈধ ছাদ ভাঙার অভিযোগ উঠল কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। কোর্টে পুরসভার তরফে বলা হয়, অনুমোদিত নির্মাণের নথি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নজরে আনা হয়নি। পুরসভার এই বক্তব্যকে কার্যত অজুহাত বলে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল হাইকোর্ট।
সম্প্রতি এই মামলায় বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর মন্তব্য, ‘কোনও আধিকারিক নিজের দপ্তরের নথি খতিয়ে না দেখেই ভাঙার নির্দেশ দিয়ে পরে বলতে পারেন না যে, বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়নি। পুর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত বেপরোয়া ভাবে কাজ করেছে।’ ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটের ছাদ আট সপ্তাহের মধ্যে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে হলে আবেদনকারীকে উপযুক্ত ফোরামের দ্বারস্থ হতে হবে বলে কোর্ট জানিয়েছে।
মামলাটি করেন এন্টালির আনন্দ পালিত রোডের একটি বহুতলের পাঁচ তলার ফ্ল্যাটের মালিক। তাঁর বক্তব্য, তিনি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী জি প্লাস ফোর বিল্ডিংয়ের টপ ফ্লোরে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। পুরসভার নথিতেও তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়। পরে প্রোমোটার অনুমোদনের বাইরে গিয়ে আরও দু’টি ফ্লোর তোলেন। সেই বেআইনি অংশ ভাঙতে গিয়ে পুরসভা তাঁর বৈধ ফ্ল্যাটের ছাদও ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ মামলাকারীর।
আদালতের নির্দেশে কলকাতা পুরসভা রিপোর্ট দিয়ে জানায়, এন্টালি থানার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। পরিদর্শনের সময়ে ছয় ও সাত তলার নির্মাণের কোনও অনুমোদিত নকশা দেখাতে না পাওয়ায় ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে মামলাকারীর অভিযোগ পাওয়ার পরে জানা যায়, জি প্লাস ফোরের অনুমোদিত নকশা ছিল। পুরসভার যুক্তি, সেই নথি সংশ্লিষ্ট এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের নজরে আনা হয়নি।
এই যুক্তি খারিজ করে আদালত জানায়, ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার আগে নিজের দপ্তরের নথি পরীক্ষা করা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরই দায়িত্ব। পরে হলফনামায় সেই সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে দাবি করা যায় না। পুরসভার আদেশ থেকেই স্পষ্ট, পুরসভার নিজস্ব নথি সম্পর্কেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিক অবগত ছিলেন না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটের ছাদ আট সপ্তাহের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করে এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে রিপোর্ট দিতে হবে।