• হরির লুট চলবে না! আয় বাড়াতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: বালি, পাথর, কয়লা পরিবহণে যে কোনও ধরনের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ করতে একাধিকবার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো কাজ শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন জেলার পুলিশ–প্রশাসন। সম্প্রতি বীরভূমে কোটি কোটি টাকার পাহাড় সামনে আসার পরে তাতে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের। শনিবার সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে পাথর খাদান থেকে রাজস্ব সরকারের ঘরে জমা পড়ত না। সেই রাজস্ব যাতে আর বেহাত না–হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার সব রকম পদক্ষেপ করছে। আগামী দিনে রাজস্ব আদায় আরও বাড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এ দিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘শুধু একটি জেলাতেই (বীরভূমে) আক্ষরিক অর্থে হরির লুট হয়েছে। আমরা ক্র্যাকডাউন করেছি। অন্যান্য জেলাতেও দেখা হবে। আমরা সরকারে আসার পরে মাত্র দশ সপ্তাহ কেটেছে। তাতেই অর্থসচিব আমাকে বলেছেন, গত বছরের থেকে ১২ শতাংশ রাজস্ব আয় বেড়েছে। আমার বিশ্বাস, চলতি আর্থিক বর্ষের শেষে রাজ্যে রাজস্ব আদায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাবে।’

    বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের হিসেব পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে বছরে জমা পড়ত। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পরে ১১ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত শুধু এই একটি খাতেই আয় হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। বর্তমানে এই অঙ্কটা প্রায় ১০০ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা সরকারি খাতায় জমা পড়লে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা চলে যেত কালো পথে। শুধু একটা জেলাতেই একটা আইটেমে এই বিপুল রাজস্ব লোকসান হয়েছে রাজ্য সরকারের। যার ফলে গত ১৫ বছরে শুধু বীরভূমের পাথর থেকেই রাজকোষে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা হাওয়া করে দেওয়া হয়েছে! যে টাকা দিয়ে নতুন হাসপাতাল, স্কুল কিংবা লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হতে পারত।’

    প্রশাসনিক কঠোরতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার উদাহরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল নেতারা বেআইনি বালির পাহাড় করে রেখেছিল। ভেবেছিল, সরকারে এসে বিক্রি করবে। জেলা প্রশাসন আমায় জিজ্ঞেস করেছিল। ফেলে রাখা বেআইনি বালির পাহাড় প্রকাশ্যে নিলাম করার নির্দেশ দিই। তা থেকে সাড়ে তেরো কোটি টাকা রাজ্য কোষাগারে জমা পড়েছে। এটা তো বাংলার মানুষের টাকা। এটা তো একদিনের একটাই ইন্সিডেন্ট নয়।’

  • Link to this news (এই সময়)