যন্তর মন্তরের যে সব আন্দোলনকারী তাঁকে এবং তাঁর মাকে গালিগালাজ করেছেন, তাঁদের ক্ষমা করার বার্তা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ভিডিয়োবার্তায় এ কথা জানানোর অব্যবহিত পরেই সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল এক কিশোরী। তার দাবি, কয়েকজনের প্ররোচনায় পা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কুকথা বলে ফেলেছে সে।
ঘটনাচক্রে, কিশোরী ভিডিয়ো করে ক্ষমা চাওয়ার ঠিক আগেই প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এফআইআর-এ মেয়েটির বয়স ২৫ বলা হলেও, ভিডিয়োবার্তা সে নিজের বয়স ১৫ বলেই জানিয়েছে।
ডোরাকাটা টি-শার্ট পরা ওই কিশোরীকে ভিডিয়োবার্তায় বলতে শোনা যায়, ‘বিক্ষোভ চলাকালীন আমি কয়েকজনের প্ররোচনায় পা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনেক খারাপ কথা বলে ফেলেছি। আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি যা করেছি তা ক্ষমার অযোগ্য। আমি অনেক বাজে কথা বলেছি। আমি গোটা দেশের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। আমি অত্যন্ত লজ্জিত ও অনুতপ্ত। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।’
যন্তর মন্তরে সিজেপি-র প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে কটূক্তি করায় ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। গত ২৩ জুলাই সিজেপির বিক্ষোভের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করায় উস্কানি, জনসমক্ষে অসদাচরণ এবং মানহানির অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় বুধবার তার বিরুদ্ধে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি ‘জ়িরো এফআইআর’ দায়ের হয়েছিল। পরে তা তদন্তের জন্য পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়। দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বার্তা দিয়েছেন, পূর্ব অপরাধের রেকর্ড না থাকলে সাধারণ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করবে না সরকার, কিন্তু বিক্ষোভের আড়ালে অসামাজিক কেউ হিংসা ছড়াতে চাইলে বরদাস্ত করা হবে না।
এই এফআইআর দায়ের নিয়েই শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সিজেপি-র তোপের মুখে পড়েছিলেন মোদী। ঠিক তার পরেই রাতে সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন মোদী। বলেন, ‘অল্প বয়সে ভুল হয়। তা বলে তরুণদের কোর্ট অথবা পুলিশের চক্করে ফেলা কিংবা সমাজে হেনস্থা করাটা কোনও সমাধান নয়।’ প্রধানমন্ত্রীর বার্তা প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরার কটাক্ষ, দেশ যাঁকে ক্ষমা চাইতে বলছে, তিনিই কী করে অন্যদের ক্ষমা করছেন!