এই সময়, পটাশপুর: এক নাগাড়ে বৃষ্টিতে কেলেঘাই, বাগুই, কপালেশ্বরী নদীর জলস্তর বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পটাশপুর ১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। চাষের জমি, বীজতলা, সবজি খেত, পুকুর, রাস্তাঘাট সব জলের তলায়। হঠাৎ করে দেখলে চাষের জমি না নদী বোঝা দায়। জমা জলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে আমনের বীজতলা। জল না সরলে নতুন করে বীজতলা ফেলা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, নতুন করে বীজতলা তৈরির সময় নেই। নিকাশি সমস্যার কারণে তাড়াতাড়ি যে জল বেরিয়ে যাবে, সেই সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। ব্যাহত জনজীবন। আশঙ্কা চাষ নষ্টের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে ভাবে কেলেঘাইয়ের জলস্তর বাড়ছে তাতে যে কোনও সময়ে বাঁধ ভেঙে ২০২১–এর মতো বন্যার কবলে পড়তে পারেন পটাশপুরের মানুষ। যদিও সেচ দফতরের তরফে বাঁধে মাটি ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনোরঞ্জন পাত্র পাঁচ বিঘায় আমন চাষের জন্য বীজতলা ফেলছিলেন। এক ইঞ্চি করে চারাও বেরিয়েছিল। এখন সব জলের নীচে। তাঁর কথায়, ‘এ বছর আর চাষ হবে না।’ একই কথা অমরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইন্দ্রনীল দাস অধিকারীর। তিনি বলেন, ‘এ বছর পটাশপুরের বেশির ভাগ চাষি আমন ধান চাষ করতে পারবে না। জমিতে জল জণএ সবজি চাষও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পটাশপুরের বিধায়ক তপন মাইতি ও পটাশপুর-১ –এর বিডিও মহম্মদ করিমুল ইসলাম।
রাজ্যের সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী অরূপ কুমার দাস বলেন, ‘কাঁথি সেচ দপ্তরের অধীনে ছোট বড় মিলিয়ে একাধিক নিকাশি নালা ও খাল রয়েছে। এই সব খাল ও নিকাশি নালায় কোথাও জবরদখল, কোথাও কচুরিপানার কারণে নিকাশি ব্যবস্থা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে এই সব নালা, খাল সংস্কারে কোনও কাজ হয়নি। যে কারণে বৃষ্টির জমা জল বেরোতে সময় লাগছে।’ তিনি জানান, নদীবাঁধের দুর্বল অংশে মাটির বস্তা ফেলে মেরামতির কাজ করছেন সেচ দপ্তরের কর্মীরা। সামগ্রিক পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা।’