চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার: ‘দাদা ভাড়াটা নিন।’ এক মহিলা যাত্রীর এ কথা শুনেও যেন শুনলেন না কন্ডাক্টর। ফের ওই মহিলা যাত্রী একই কথা বললে কন্ডাক্টর কিছুটা দূরে চলে গেলেন। নাছোড়বান্দা ওই মহিলা নামার সময়ে কন্ডাক্টরকে বললেন, ‘তখন থেকে ভাড়ার জন্য ডাকছি, শুনতে পাচ্ছেন না।’ কন্ডাক্টরের তখন সরল স্বীকারোক্তি, ‘কিছু মনে করবেন না দিদি, আপনাদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়ার কোনও নির্দেশ আসেনি। তাই আপনি চাইলেও আমি ভাড়া নিতে পারব না।’ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে (এনবিএসটিসি) এই দৃশ্য এখন প্রায়ই দেখা যায়। সরকারি বাসে তাঁদের ফ্রিতে যাতায়াতের সুযোগ মিললেও অনেক মহিলা যাত্রী টিকিট কাটতে চান। কিন্তু সরকারি নির্দেশ না আসায় এক্ষেত্রে হাত–পা বাঁধা কন্ডাক্টরদের। তাঁরা টিকিট দিতে না চাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের রোষের মুখে পড়ছেন।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গত ১ জুন থেকে সরকারি বাসে বিনা বসায় যাতায়াতের সুযোগ মিলেছে মহিলা যাত্রীদের। এর ফলে আগের চেয়ে মহিলা যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে এনবিএসটিসিতে। পাশাপাশি কমেছে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা। সরকারি ঘোষণা মতো নিগমের বাসেও মহিলা যাত্রীদের থেকে ভাড়া নেওয়া হয় না। মহিলা যাত্রীদের শূন্য টাকার টিকিট দিতে হচ্ছে কন্ডাক্টরদের। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষিকা থেকে শুরু করে সরকারি–বেসরকারি চাকুরিজীবী অনেক মহিলারাই সরকারি বাসে উঠে এখন আর বিনা পয়সায় যেতে চাইছেন না। তাঁরা টিকিট কাটতে চান। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্বামী বা বাড়ির সদস্য বা বন্ধুর সঙ্গে বাসে উঠলেও একইরকম ভাবে মহিলাদের টিকিট কাটা হচ্ছে না। এক যাত্রায় পৃথক ফল অনেক মহিলাই চাইছেন না। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘যে সব মহিলারা ভাড়া দিতে চান, তাঁরা স্বাগত।’ কিন্তু এ নিয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ জারি না হওয়ায় অনেক সময় বাসের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
নিগম সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, জুন মাসে মহিলা যাত্রী বাবাদ ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার টিকিট ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাৎ, মহিলা যাত্রীদের থেকে যদি ভাড়া নেওয়া হতো, তাহলে ওই পরিমাণ অর্থ নিগমের কোষাগারে জমা পড়ত। জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত এই টিকিটের পরিমাণ ৮ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রত্যেক মাসেই মহিলা যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে এনবিএসটিসির এক আধিকারিক বলেন, ‘অনেক মহিলাই টিকিট কেটে যেতে চাইছেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশ না থাকায়, আমরা ভাড়া নিতে পারছি না। এর জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে কন্ডাক্টারদের কথা শুনতে হচ্ছে। কিন্তু আমরা নিরুপায়।’ নিগমের আর্থিক হাল সঙ্গিন। এই অবস্থায় ইচ্ছুক মহিলাদের থেকে ভাড়া নিলে আর্থিক দিক দিয়ে কিছুটা সুবিধা হতো বলে মনে করছেন নিগম কর্তৃপক্ষ।