• তারাতলায় ইসকনের মেগা কিচেনের উদ্বোধনে শুভেন্দুু
    আজকাল | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্কুলে স্কুলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দিতে মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় নতুন মডেল চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার তারাতলায় ইসকনের মেগা কিচেনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩১৯টি সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকন অন্নামিত্র ফাউন্ডেশনকে।

    রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার প্রায় ৩০ হাজার পড়ুয়ার জন্য প্রতিদিন রান্না করা পুষ্টিকর নিরামিষ খাবার নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীভূত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে খাবারের গুণমান, স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টিমান এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মিড-ডে মিলে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

    কিন্তু ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা বহাল থাকছে। তবে ইসকনের পরিবর্তে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদাভাবে ডিম স্কুলগুলিতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    ফলে নির্ধারিত দিনে পড়ুয়ারা আগের মতোই ডিম পাবে। সরকার এই প্রকল্পে প্রাথমিক স্তরের মিড-ডে মিলের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে। প্রশাসনের মতে, অতিরিক্ত বরাদ্দের ফলে খাবারের গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

    ইসকন জানিয়েছে, সরকারি সহযোগিতায় পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি উদ্ভাবন, দক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

    এই অগ্রণী উদ্যোগটি স্কুলের শিশুদের জন্য পুষ্টিকর মিড ডে মিল পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সমাজসেবায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের শক্তিকে এই উদ্যোগ তুলে ধরবে।

    বাজেট পেশ করার সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন যে, পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে কলকাতার পুর এলাকাগুলিতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে।

    এরপরেই আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কে জল ঢেলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার নবান্ন থেকে তিনি ঘোষণা করেন যে, কলকাতার একটি বড় অংশে ইসকনের দ্বারা মিড-ডে মিল বিরতণ হবে এবং ইসকন সাত্ত্বিক-শুদ্ধ প্রোটিন যুক্ত খাবার পরিবেশন করবে। তার বাইরেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রোটিন যুক্ত ডিম আলাদা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক স্তরেও ছাত্রপিছু বরাদ্দ ১০ টাকা করা হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে তা কার্যকর হবে। এছাড়া মিড-ডে মিল রান্নার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
  • Link to this news (আজকাল)