পদ্মার রুদ্ররূপে ভিটেমাটি হীন হওয়ার ভয়! তলিয়ে গেল বিঘার পর বিঘা জমি, আতঙ্কে লালগোলা
News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
: আবারও ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ও লালগোলা বিধানসভার সীমান্তের শেখালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণপুর এলাকায়। শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর পাট ও ধান চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনস্থল থেকে জনবসতি মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে চলে আসায় গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫-৭০০টি পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে যে জরুরি বা ‘ইমার্জেন্সি’ কাজ করা হয়, তা স্রেফ অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। উত্তাল নদীর স্রোতে খাঁচা-পাথর বা বালির বস্তা ফেললে তা নিমেষেই ভেসে যায়। এলাকার প্রাক্তন মেম্বার আলাউদ্দিন এবং স্থানীয় যুবক জুয়েল শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভরা নদীতে জোড়াতালির কাজ না করে শুকনো মরশুমে কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হোক। নদী ভাঙনে একের পর এক জমিও সম্পত্তি হারিয়ে অনেকেই এখন ভিটেমাটিহীন হয়ে দিনমজুর ও পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও অর্থ বা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না।
ইতিমধ্যেই ভাঙন কবলিত রাধাকৃষ্ণপুর এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক আখরুজ্জামান। বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এবং তাঁদের দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ভরা পদ্মায় বালি-পাথর ফেললে স্রোতে ভেসে যাবে— এই প্রশ্ন আমার মনেও আছে। খরা মরশুমে কাজ হলেই আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।” তিনি বলেন, এলাকাটি স্থায়ীভাবে বাঁধানোর জন্য বিগত সরকারের সময় ১৭ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার একটি স্কিমের টেন্ডার ও টেকনিক্যাল বিড সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য অর্থ দফতরে ফাইলটি আটকে রয়েছিল। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি নিয়ে তিনি সেচমন্ত্রী ও প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।
পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি দফতর ও এডিএ-র (ADA) কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিধায়ক। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জেলা শাসক ও সরকারের কাছে এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বাস্তু ভিটে ও জমির ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সব মিলিয়ে দ্রুত স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু না হলে আগামী দিনে লালগোলার বিশাল জনবসতি মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।