• ‘হানিট্র্যাপে’ রাজনীতিবিদদের নিশানা! ঝাড়খণ্ডে এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বাঙালি বান্ধবী
    প্রতিদিন | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • এবার বেঙ্গল এসটিএফের জালে জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। তারপরই নিয়ে আসা হয় বর্ধমান থানায়। শনিবারই তোলা হবে আদালতে। 

    জানা যায়, বাংলার রাজনীতিকদের উপর হামলা চালাতে তাঁদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহের জন্য ঝাড়খণ্ডের এক বাঙালি তরুণীকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল সে। অর্পিতা সরকার নামে ওই তরুণী ঝাড়খণ্ডের বারহাওড় এলাকার বাসিন্দা। হামিমের সঙ্গে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পাওয়া গিয়েছে।

    কীভাবে কাজ করত হামিম ও অর্পিতা? এসটিএফ তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, জইশ জঙ্গি হামিমের মূল টার্গেট ছিলেন বাংলার রাজনীতিবিদরা। আর তাই সে বাঙালি তরুণীকেই ‘ফাঁদ’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে অর্পিতার নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করিয়ে দিয়েছিল সে। তার মাধ্যমেই তাঁদের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য চলে আসত হামিমের নাগালে। যার উপর ভিত্তি করে হামলার ব্লুপ্রিন্ট ছকত। কিন্তু শেষরক্ষা আর হয়নি। এসটিএফের তুখড় চালে জিম থেকেই হাতেনাতে পাকড়াও হয় হামিম মণ্ডল।

    আরও জানা গিয়েছে, হামিমদের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমানেরই মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর গ্রামে। হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল ১৯৯৮ সাল থেকে কর্মসূত্রে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় থাকেন। সেখানেই এক অবাঙালি মহিলাকে বিয়ে করে বসবাস করতেন। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মাস দুয়েক আগে রেনেসাঁয় রোহিনি টাওয়ারে একতা মেহেরার ফ্ল্যাট ভাড়া নেন মনিরুদ্দিন। পরিবারের সকলেই থাকতেন। শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিংয়ের জিম থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের গ্রেপ্তার হয় হামিম মণ্ডল। গ্রেপ্তারির পর সেখানে গিয়ে দেখা যায় ফ্ল্যাট তালা বন্ধ। প্রতিবেশী শাশ্বতী গঙ্গোপাধ্যায়, মহাদেব খানরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাঁদের পাশেই একজন ‘জঙ্গি’র বসবাস ছিল। ঘুণাক্ষরেও তাঁরা টের পাননি কিছু।
  • Link to this news (প্রতিদিন)