সঞ্চয়ের প্রথম পাঠ স্কুলেই! মুর্শিদাবাদের প্রাথমিক স্কুলে খুলল ব্যাঙ্ক, কাউন্টারে পাশবই হাতে পড়ুয়ারা
প্রতিদিন | ০১ আগস্ট ২০২৬
পড়ার বইয়ের সঙ্গে পাশাপাশি এবার থাকবে পাসবইও! সঞ্চয়ের প্রথম পাঠ শুরু হল ক্লাসরুম থেকেই। রাজ্যে প্রথমবার কোনও প্রাথমিক স্কুলের ভিতরেই খুলে গেল ব্যাঙ্ক। মুর্শিদাবাদের সুতি ১ ব্লকের ৮০ বছরের পুরনো ঘোড়াপাখিয়া নম্বর- ২ প্রাথমিক স্কুলের নামেই নাম ‘জিপিএস ব্যাঙ্ক’। শুক্রবার সুতি ১ ব্লকের দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা ম্যানেজার প্রেম ঘোলুই ও অয়ন দাসের হাত ধরে পথচলা শুরু হল এই ব্যাঙ্কের।
এই ব্যাঙ্কের সবচেয়ে বড় চমক হল-ক্যাশিয়ার থেকে হিসাবরক্ষক, সবাই খুদে পড়ুয়া। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৯ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ক্যাশ কাউন্টার সামলাচ্ছে পঞ্চমের রজনী দাস, অঙ্কুশ দাস, মৃন্ময়ী দাস এবং চতুর্থের দিয়া দাস। ব্যাঙ্কের নিয়ম সর্বনিম্ন ২ টাকা, সর্বোচ্চ ১০ টাকা জমা করা যেতে পারবে। মাসে একবার তোলা যাবে টাকা। কিন্তু জমাকৃত টাকার কোনও সুদ নেই। শুধুই অভ্যাস। শুরুটা ভালোই ছিল। প্রথমদিনেই ৩১ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ১১৯ টাকা।
এপ্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, “এলাকার শিক্ষার হার ৭৪.২৬ শতাংশ। শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, অর্থজ্ঞানও দরকার। গ্রামে কোনও খাতা-পেনের দোকান না থাকায় শিক্ষকরা স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাতা-পেন, বক্স কেনার ব্যবস্থা করেছিলেন। এখন থেকে এই ব্যাঙ্কের সঞ্চয়ের টাকা থেকেই ছাত্রছাত্রীরা খাতা-পেন নিজেরাই কিনতে পারবে।” ব্যাঙ্ক কর্তাদের বক্তব্য, গ্রামের মানুষ ব্যাঙ্কে গিয়ে প্রথমেই ফর্ম দেখে ভয় পান। ছোটবেলা থেকে যদি ‘ব্যাঙ্কের অ, আ, ক, খ’ শেখানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সঞ্চয়ের হার বাড়বে। ২৭১ জন ছাত্রছাত্রীর এই স্কুলের উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের আশা, জিপিএস ব্যাঙ্কের মডেল রাজ্যের গণ্ডি পেরোবে।