‘এ জন্মে আর বুঝি ফেরা হবে না’, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আক্ষেপের সুর তসলিমার
প্রতিদিন | ০১ আগস্ট ২০২৬
পদ্মাপাড় তাঁর জন্মভূমি, মাতৃভূমি। হয়ত কর্মভূমিও ছিল। কিন্তু মৌলবাদের চোখরাঙানিতে বেশিদিন সাহিত্য রচনা দূর অস্ত, স্বদেশে থাকতেই পারেননি ভুবন বিখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কার্যত তাড়া খেয়ে চলে আসতে হয়েছিল প্রতিবেশী ভারতে। এপার বাংলার তিলোত্তমা কলকাতার বুকে নিশ্চিন্তির আশ্রয় পেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও থিতু হওয়া হয়নি তাঁর। কট্টরপন্থীদের আপত্তিতে এ শহর ছেড়েও চলে যেতে হয়েছিল। সেই ‘লজ্জা’ কাটিয়ে দু’দশক পর সংস্কৃতির শহরে এসেছেন তসলিমা। শনিবার, ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে তাঁর অনুষ্ঠান। ঘরে ফেরা বড়ই আনন্দের লেখিকার কাছে। কিন্তু আনন্দের মাঝেও আক্ষেপ! বললেন, ”এ জন্মে আর বুঝি বাংলাদেশে ফেরা হবে না।”
বাংলাদেশের ইসলাম মৌলবাদের বিরুদ্ধেই সদা গর্জে উঠেছে তসলিমার কলম। আর তাই তিনি কট্টরপন্থীদের চক্ষুশূল। আজও মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা তসলিমাকে খোলা মনে গ্রহণ করতে পারেন না। বাংলাদেশ এত বছর ধরে এত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তবু যেন তার হৃদয় প্রসার হয়নি এতটুকু। খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা, মহম্মদ ইউনুস পেরিয়ে এখন তারেক রহমানের সরকার সেখানে। তবু উগ্রপন্থীদের বাড়বাড়ন্ত বিশেষ কমেনি। যতবার বাংলাদেশে কট্টরপন্থার উগ্র রূপ দেখেছেন, ততবারই দূরে বসেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন ‘দ্বিখণ্ডিত’ লেখিকা।
এবার স্বদেশের খুব কাছে এসেছেন তিনি। এপার বাংলা থেকে কি ওপারে যাওয়ার রাস্তা কাছে হল? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নের জবাবে ক্ষীণ কণ্ঠে তসলিমা বললেন, ‘‘বাংলাদেশে আমার ফেরা আর সম্ভব বলে আমি মনে করি না। আমার বিশ্বাস নেই যে আমি এ জন্মে আর ওখানে যেতে পারব বলে। যদি তা হয়, সেটা অলৌকিক কিছু হবে।”
তবে কি কলকাতায় থাকবেন আবার পাকাপাকিভাবে? নাহ, তা নিয়েও নিশ্চিত নন লেখিকা। তবে আবার কলকাতার দুয়ার খুলে গেল তাঁর কাছে, এ পরম প্রাপ্তি বলেই মনে করেন। তসলিমা বলছেন, ‘‘এবার থেকে ঘনঘন কলকাতায় আসতে পারব বলে মনে হচ্ছে। কারণ, এই সরকার আমার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে তবেই আমাকে এখানে এনেছে। তাই মনে হয় চাইলেই কলকাতায় এসে থাকতে পারব। এ আমার প্রাণের শহর। চলে যেতে হয়েছিল দুর্বিপাকে পড়ে। তখনকার সরকার চায়নি, আমি এখানে থাকি। তৃণমূল সরকারও আমার ফেরা নিয়ে উদাসীন ছিল।” এমনই সব ছোট-বড়, সুন্দর-তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তসলিমা হয়ত আরও বিশদে বলবেন শনিবার সন্ধ্যায়, রবীন্দ্রসদনের অনুষ্ঠানে। তার আগে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে আক্ষেপটুকু যেন হাজার প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো রয়ে গেল।