নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডিম থেরাপির পরদিন পুরসভায় এলেন না চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলারদের দাবি, ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন চেয়ারম্যান। মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও নিজের শিবিরে রাখতে পারছেন না দলের কাউন্সিলারদের। যদিওবা কয়েকজন কাউন্সিলার তাঁর পক্ষে ছিলেন, পুরসভায় চেয়ারম্যানের চেম্বারে ঢুকে বাসিন্দারের ডিম থেরাপির পর ওইসব কাউন্সিলাররাও একে একে সৈকতের পাশ থেকে সরতে শুরু করেছেন। নাম লেখাচ্ছেন অনাস্থার পক্ষের শিবিরে। ফলে এখন চেয়ারম্যানের ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
যদিও শুক্রবার সন্ধ্যায় সৈকত বলেন, এখনও বলছি, আমার কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। যাঁরা অনাস্থায় সই করেছেন, তাঁদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এসবই সৈকতের ফাঁকা আওয়াজ দাবি করে অনাস্থায় সই করা ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর দাবি, অনাস্থায় চেয়ারম্যানকে সরানোর জন্য যে সংখ্যা দরকার, তার চেয়ে অনেক বেশি আছে আমাদের কাছে। এদিন পুরসভায় না আসা নিয়ে সৈকতের অবশ্য সাফাই, ৩১ জুলাই আমি অফিসে আসব না, এটা আগে থেকেই জানানো ছিল।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থায় সই করা কাউন্সিলারদের জোটবদ্ধ রাখতে ময়দানে তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির। ঘন ঘন তারা গোপন বৈঠক করছে। এই শিবিরের পরামর্শদাতা হিসাবে শহরের এক প্রোমোটার রয়েছেন বলে খবর। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ওই প্রোমোটারের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে পুরসভা নোটিসও করেছে তাঁকে। এরপরই তিনি অনাস্থা আনা শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলার এখনও পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাবে সই না করলেও সৈকতের উপর ডিম থেরাপির পর থেকে তাঁরাও চেয়ারম্যান বিরোধী শিবিরে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন বলে সূত্রের খবর। অনাস্থায় সই করে এক তৃণমূল কাউন্সিলার পারিবারিক কাজের কারণ দেখিয়ে কলকাতায় গিয়েছেন। তাঁকে সোমবার সকালের মধ্যে জলপাইগুড়িতে ফিরতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থায় যাঁদের সই রয়েছে, সোমবার তাঁদের সশরীরে হাজির হতে বলতে পারেন জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসক মঈন আহমেদ। সেক্ষেত্রে যাতে সবাইকে হাজির করানো যায়, সেই চেষ্টার কোনো খামতি রাখছে না তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির। তৃণমূল কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দলের সিদ্ধান্ত ও শহরের অধিকাংশ সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে।