• উত্তরের চায়ে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক! বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে কাঁচা পাতা
    বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরের চায়ে ‘বিষ’! মাত্রাতিরিক্ত হারে কীটনাশক প্রয়োগের ফলেই এই পরিস্থিতি। অভিযোগ, কোনো কোনো চা বাগানে আবার চোরাগোপ্তাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ কীটনাশক। ফলে ঘনাচ্ছে আরও বড়ো বিপদ। 

    এই পরিস্থিতিতে চা কেনার ক্ষেত্রে শর্ত চাপিয়েছে একাধিক নামী সংস্থা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকার নির্ধারিত যে ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লেভেল বা এমআরএল রয়েছে, তার বেশি থাকলে সেই চা কেনা হবে না। এরই জেরে চাপে পড়ে গিয়েছে বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলি। ক্ষুদ্র বাগান থেকে পাতা কিনে চা তৈরি করে তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমআরএল সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো কাঁচা চা পাতা কেনা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বটলিফের তরফে। তাদের এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র চা চাষিরা। বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় কাঁচা চা পাতা ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। 

    সবমিলিয়ে উত্তরবঙ্গে ৪০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র চা চাষি। উৎপাদিত চায়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র বাগান থেকে। ফলে জট না কাটলে সমস্যায় পড়তে হবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল উত্তরের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে। সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। শুক্রবার নবান্নে তাঁদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের বৈঠক হয়। নিষিদ্ধ কীটনাশক বিক্রি বন্ধে রাজ্য সরকার যাতে কড়া অভিযান চালায়, মন্ত্রীর কাছে সেই দাবি জানান ক্ষুদ্র চা চাষিরা। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় পথ খুঁজতে আজ, শনিবার জলপাইগুড়িতে বৈঠক রয়েছে। 

    জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর দাবি, নিষিদ্ধ কীটনাশক কোনোভাবেই যাতে বিক্রি না হয়, সেজন্য কড়া অভিযান চালাক প্রশাসন। তারপরও যদি কাঁচা চা পাতা পরীক্ষা করে নেওয়ার দরকার থাকে, সেক্ষেত্রে টি বোর্ড কিংবা বটলিফ কিট ব্যবহার করুক। 

    বটলিফ মালিকদের সংগঠন নর্থবেঙ্গল টি প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নীরজ পোদ্দারের অবশ্য বক্তব্য, পাতায় কীটনাশকের মাত্রা জানা যাবে, এমন কোনো কিট আদৌ রয়েছে কি না কিংবা তার নির্ভরযোগ্যতা কী, তা আমাদের জানা নেই।। এ ব্যাপারে যা করার রাজ্য সরকার এবং টি বোর্ডকে করতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)