• নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা পদ্মর, দরকার তৃণমূলের সমর্থন
    বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় থাকল বিজেপি। শুক্রবার কৃষ্ণনগরের জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের তরফে জানানো হয়, সভাধিপতি পদের জন্য বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন প্রণতি বিশ্বাস। আগামী ৫ আগস্ট জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর অন্যদিকে। জেলা পরিষদে বিজেপির সদস্য সংখ্যা মাত্র ছ’জন। ফলে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করতে হলে তৃণমূলের একাংশের সমর্থন দরকার। নির্বাচনের দিন তৃণমূল সদস্যরা বিজেপির পক্ষে ভোট দেন কি না, নাকি শাসক দল নিজেদের প্রার্থী নিয়েই লড়াইয়ে নামে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

    শুক্রবার বিজেপির সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার, উত্তর নদীয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এবং রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী। এদিন বৈঠক থেকেই বিজেপির জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদপ্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন জেলা পরিষদের তৎকালীন সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। পরে ২ জুলাই ডাকা বিশেষ সভায় ৩১ জন সদস্য তাঁর অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। বর্তমানে ৫২ সদস্যের জেলা পরিষদে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ৪৬ এবং বিজেপির ৬।

    এর আগে রানাঘাটের সাংসদ ঘোষণা করেছিলেন, সভাধিপতি পদে বিজেপি প্রার্থী দেবে। সেই লক্ষ্যে তৃণমূলের সদস্যদের কাছে বিজেপিকে সমর্থন করার আবেদনও জানিয়েছিলেন। পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নদীয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অবশেষে শুক্রবার সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনা হল।

    সাংবাদিক সম্মেলনে জগন্নাথবাবু বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হয়নি। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে ৫-৬ টির বেশি ওরা জিততে পারত না। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে তৃণমূল জিতেছে।’

    রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, প্রথম থেকেই আমরা বলেছিলাম, সরকার বিজেপির। তাই জেলা পরিষদও বিজেপি গঠন করবে। আমাদের দলের সদস্যদের মধ্যে ওবিসি সদস্য ছিলেন। তাই প্রার্থী দেওয়ার কথা আমরা আগেই বলেছিলাম। এবার সেটাই চূড়ান্ত হল।‌ আমাদের প্রার্থীকে নৈতিক সমর্থন জানাতে বিবেক ভোট দেবেন বাকি সদস্যরা। বোর্ড গঠনের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।‌ দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা আনতেই তৃণমূল সদস্যরা অনাস্থা এনেছিলেন। তাই তাঁরা নিশ্চয়ই স্বচ্ছ জেলা পরিষদ গড়তে আমাদের সমর্থন করবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)