• প্রতিবেশীর বাড়িতে লুকিয়েও রেহাই নেই, তৃণমূল নেতার উপর ডিম বৃষ্টি
    বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: প্রতিবেশীর বাড়িতে আত্মগোপন করেও রেহাই মিলল না। উন্মত্ত জনতা সেখান থেকেই তৃণমূলের নেতা, কাটোয়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গৌতম ঘোষালকে টেনে বের করে আনল। তারপর চলল তার উপর ডিম বৃষ্টি। তবে পুলিশ গিয়ে গৌতমকে উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গৌতমের দুর্নীতিতে গোটা এলাকাই শেষ হয়ে গিয়েছে। এদিন জগদানন্দপুরে বিজেপির নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দারা পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে। প্রধান হারু দাসকে ঘিরে ধরে পঞ্চায়েতের তহবিলের হিসাব চাওয়া হয়। হারু দাস সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কিছু জানেন না। যা জানার গৌতমবাবু জানেন। কারণ পঞ্চায়েতের কাজকর্ম তিনিই পরিচালনা করতেন। এরপরেই বিজেপি নেতারা খেপে গিয়ে গৌতম ঘোষালের বাড়ি যান। কিন্তু সেখানে তিনি ছিলেন না। প্রতিবেশী ববিতা মণ্ডলের বাড়ি আত্মগোপন করেছিলেন। সেখানেই জনরোষ আছড়ে পড়ে। তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ববিতা দেবী দাবি করেন গৌতমবাবু সেখানে নেই। তাতে আরও খেপে গিয়ে বাসিন্দারা বাড়ির দরজায় লাথি মারতে থাকে। শাবল দিয়ে গেট ভাঙার চেষ্টা হয়। শেষে কাটোয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলে গৌতম ঘোষালকে বের করা হয়। তখন গৌতম ঘোষালকে মারধর করার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়ি থেকে বের করে আনার চেষ্টা হয়। ডিম বৃষ্টি শুরু হয় তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের উপর।  গৌতমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত দু’ লক্ষ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল জমা পড়েনি। এর আগে দেড় লক্ষ টাকা মাত্র দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি পুকুর মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়া রয়েছে। বেশ কয়েকটি মার্কেট রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে সেসব থেকে আয়ের কোনো হিসাব পঞ্চায়েত দিতে পারছে না। এ ব্যাপারে পঞ্চায়েতের প্রধান হারু দাস বলেন, আমি ২০২৩ সালে পঞ্চায়েতের দায়িত্ব  নিয়েছি। তাই আগে কী হয়েছে বলতে পারব না। স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ ঘোষ বলেন, ২০১৮ সাল জলপ্রকল্পের জন্য জায়গা কেনা হয়েছিল। তা এখনও পঞ্চায়েতের নামে রেজিষ্ট্রি করায়নি গৌতম ঘোষাল। আমডাঙা, ঘোড়ানাশ এসব এলাকায় আবাস নিয়ে একাধিক দুর্নীতি করেছেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকে গৌতম ঘোষাল জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রধান পদে ছিলেন। তারপর তিনি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য হন। কিন্তু পঞ্চায়েতের কাজ তিনিই পরিচালনা করতেন। পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি জবা মুখোপাধ্যায় বলছেন, নিজস্ব তহবিলের অবস্থা খুব খারাপ। এখন মাত্র ১ লক্ষ টাকা পড়ে আছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)