• দত্তপুকুরে গেঞ্জির সুতো রং করার কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, মৃত্যু, গুরুতর জখম আরো এক শ্রমিক
    বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আচমকা বিকট শব্দ। কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল কারখানা চত্বর। আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে বাইরে ছুটলেন শ্রমিকেরা। শুক্রবার দুপুরে দত্তপুকুরের একটি গেঞ্জি সুতোর রং করার কারখানার বয়লার ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হল এক শ্রমিকের। গুরুতর জখম আরও একজন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সুজয় সামন্ত। তাঁর বাড়ি বরানগরে। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে তাঁর শরীরের একাধিক অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অপর শ্রমিককে উদ্ধার করে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। 

    খবর পেয়ে এলাকায় যান বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দার, জেলা কমিটির সদস্য অরূপ সেন সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দত্তপুকুরের নীলগঞ্জের তালদাড়িয়া এলাকায় গেঞ্জি কারখানায় কাজ চলাকালীন আচমকা বিস্ফোরণ হয় বয়লারে। বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দারাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। পৌঁছায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে যান বারাসতের এসডিপিও শুভাঙ্গী সুদর্শন কেকানসহ দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাফিলতির অভিযোগে কারখানার ম্যানেজারসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বয়লার পরিচালনা, নিরাপত্তা বিধি এবং কারখানার প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানাটিতে মূলত গেঞ্জি তৈরির সুতো রং করার কাজ হত।

     স্থানীয় বাসিন্দা সাগর বিশ্বাসের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই একের পর এক কারখানা গড়ে উঠেছে। খালের ধারে অন্তত ৩০ টির মতো কারখানা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বয়লার চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী নেই। গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)