নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মাটির বাড়ি ধসে মৃত্যু হল বাবা ও মেয়ের। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে হুগলির মগরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গজঘণ্টায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম গৌর মালিক (৫৭) ও তাঁর মেয়ে মাম মালিক (২৩)। মাটির বাড়িতেই তাঁরা থাকতেন। শুক্রবার ভোররাতে সেই বাড়ি ভেঙে পড়লে দু’জনে চাপা পড়ে যান। প্রতিবেশীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শেষপর্যন্ত দু’জনকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গজঘণ্টার মালিকপাড়ায় শোকের ছায়া নেমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌরবাবু পেশায় সবজি ব্যবসায়ী। তিনি রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে টাকা পেয়েছিলেন। সেই বাড়ি তৈরির কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনও হাতে পাননি। ফলে, বাধ্য হয়েই গৌরবাবুকে ভগ্ন মাটির বাড়িতে থাকতে হচ্ছিল। আর এই মাটির বাড়িই প্রাণ কেড়ে নিল বাবা ও মেয়ের। এমনটাই মনে করছে প্রতিবেশীদের একাংশ। প্রতিবেশীদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভাঙা বাড়ি আরও নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। তার জেরেই বিপত্তি হয়েছে।
এই ঘটনায় বেঁচে গিয়েছেন গৌরবাবুর ছেলে প্রসেনজিৎ মালিক। গৌরবাবুর স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে দশ বছর আগে। বছর দু’য়েক আগে তাঁর এক ছেলেরও মৃত্যু হয়। প্রসেনজিৎ ও মামকে নিয়েই তিনি মাটির বাড়িতে থাকতেন। প্রসেনজিৎ গাড়ির খালাসির কাজ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বাড়ি ফেরেননি। তাতেই তাঁর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। প্রতিবেশী সন্তু মালিক বলেন, বড়ো আশা করে বাড়ি করছিলেন। সেই আশা পূরণ হল না। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান জয়শ্রী পাল বলেন, গৌরবাবু সরকারি বাড়ি পেয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া যায়নি। যে কোনো মৃত্যুই দুঃখের। এদিকে, এই দুর্ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।