পাখি পাচারের ঘটনায় বারুইপুর পুরসভায় অভিযান চালাল পুলিশ
বর্তমান | ০১ আগস্ট ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুর পুরসভা পরিচালিত আরণ্যক বনভোজন উদ্যান থেকে পাখি পাচারের ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। সেই ঘটনার তদন্তে শুক্রবার বারুইপুর পুরসভায় অভিযান চালাল পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের টিম যায় সেখানে। উদ্যানের জমির কাগজ, কোথা থেকে পাখি আনা হয়েছে, যাবতীয় তথ্য পাঁচদিনের মধ্যে বারুইপুর থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে পুরসভাকে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত নোটিস দেওয়া হবে পুরসভাকে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বারুইপুর আদালতে যাওয়ার সময় উদ্যানের সুপারভাইজার ধৃত পল্লব ভারতী দাবি করেছিলেন, পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররা আমাকে ফাঁসিয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষ সব জানে। এরপরেই তড়িঘড়ি পুরসভায় হানা দেয় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বারুইপুরের পুর চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, পুলিশ এসেছিল। কিছু কাগজপত্র দেখেছে।
এদিন পুলিশের টিম পুরসভায় গিয়ে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপস্থিত কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা বলে। উদ্যানের জমির পরিমাণ, কত পাখি ছিল ইত্যাদি জানতে চান তাঁরা। ধৃত সুপারভাইজার পল্লব ভারতীর ছেলের দাবি, আরণ্যক বনভোজন উদ্যানে ময়ূর থাকাকালীন বারুইপুর থেকে বনদপ্তরের লোকজন এসেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বনদপ্তর ও পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানত উদ্যানে ময়ূর আছে। এখন ময়ূর রাখা নিয়ে বনদপ্তরের প্রশ্ন তোলা অমূলক। এই ঘটনায় বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর। এদিন তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনদপ্তরের বারুইপুর রেঞ্জের অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যান পুরসভার। তাহলে বনদপ্তর শুধু সুপারভাইজারের নামে অভিযোগ করল কেন? পুরসভার কি কোনো দায় নেই? কেন পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল না? পাখি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পরেও কেন নজরদারি করল না? কেন তাদের চিকিৎসা করা হল না? এমন একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, আরণ্যক উদ্যানের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র