• চারচাকা গাড়ির মালিক, পিএম কিষাণ ক্রেডিট কার্ড থাকলে বাতিল হবে রেশন কার্ড? নিয়মটা জেনে নিন
    এই সময় | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • রেশন বন্টন ব্যবস্থার উন্নতিতে এবং কালোবাজারি রুখতে ইতিমধ্যেই একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছে নতুন রাজ্য সরকার। রেশন কার্ড বন্টন নিয়েও গত সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সে ব্যাপারেও নজরদারি রয়েছে সরকারের।

    জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে দেশের নিম্নবিত্ত পরিবার স্বল্পমূল্যে চাল, গম-সহ রেশন সামগ্রী পেয়ে থাকেন। তবে বহু ‘অযোগ্য’ মানুষ এই সুবিধা পাওয়ার কারণে অসংখ্য যোগ্য পরিবার রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই উপভোক্তাদের রেশন কার্ড যাচাই করার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এমন অনেক উপভোক্তা আছেন, যাঁদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার বেশি। আবার অনেকেই আছেন, যাঁদের ভুয়ো কার্ড তৈরি করা হয়েছে, অনেক মৃত ব্যক্তির নামে রেশন সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই সব কারণেই রেশন কার্ড যাচাইয়ের কাজ করা শুরু হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে মূলত তিন ধরনের রেশন কার্ড উপভোক্তা রয়েছে। সেগুলি হলো—

    সমাজের সবথেকে দরিদ্র শ্রেণির পরিবারের মানুষকে এই কার্ড দেওয়া হয়। এই পরিবারগুলি বিপিল তালিকাভুক্ত। এই কার্ড থাকলে পরিবারপিছু বিনামূল্যে ২১ কেজি চাল এবং ১৩ কেজি ৩০০ গ্রাম আটা অথবা ১৪ কেজি গম পাওয়া যাবে। এছাড়াও চিনি পাওয়া যাবে যার মূল প্রতি কেজি ১৩ টাকা ৫০ পয়সা।

    অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির পরিবারের মানুষকে এই রেশন কার্ড দেওয়া হয়। সাধারণত বার্ষিক ৪৪ হাজার থেকে ৫৯ হাজার বা ১.২ লক্ষ আয় রয়েছে এমন পরিবারগুলি এই তালিকাভুক্ত। এই কার্ডের মাধ্যমে মাথাপিছু ৩ কেজি চাল পাওয়া যায় বিনামূল্যে। এর সঙ্গে মাথাপিছু ১ কেজি ৯০০ গ্রাম আটাও পাওয়া যায় বিনামূল্যে। আটার পরিবর্তে গম নিতে চাইলে মাথাপিছু পাওয়া যায় ২ কেজি।

    এই ধরনের রেশন কার্ড থাকলেই উপভোক্তারা মাথাপিছু ৩ কেজি চাল, ১ কেজি ৯০০ গ্রাম আটা অথবা ২ কেজি গম পান।

    এই তিন ধরনের কার্ড ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে RKSY I এবং RKSY II— এই দুই ধরনের রেশন কার্ডও চালু রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

    RKSY I - এই রেশন কার্ড থাকলে উপভোক্তারা শুধুমাত্র মাথাপিছু ৫ কেজির চাল পাবেন।

    RKSY II - এই রেশন কার্ড থাকলেও উপভোক্তারা শুধুমাত্র মাথাপিছু ২ কেজি চাল পাবেন।

    রেশন বন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানিয়েছেন, অতীতে যে ভাবে মধ্যস্বত্বভোগীরা ৭০ শতাংশ টাকা আত্মসাৎ করেছে, সেটা আর বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় খাদ্যসামগ্রী প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। চাষিদের সরাসরি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    রেশনের কাজে আরও স্বচ্ছতা আনতে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘স্মার্ট রেশন’ ব্যবস্থা। রেশন বন্টনের সমস্ত কাজ হবে অনলাইনে। ডিস্ট্রিবিউটরের ঘর থেকে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, রেশন দোকানে গ্রাহকদের তা দেওয়া, রেশন কার্ড পরিচালনা সব কিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রেশন দোকানে চোখের মণি স্ক্যান করা বা হাতের ছাপ নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে।

    প্রশ্ন: চারচাকা গাড়ি থাকলেই কি রেশন কার্ড বাতিল হবে?

    উত্তর: গ্রামীণ এলাকায় দুই/তিন/চার চাকার গাড়ি থাকলে তা রেশন কার্ড বাতিলের একটি শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

    প্রশ্ন: কিষাণ ক্রেডিট কার্ড থাকলে কি সবসময় রেশন কার্ড বাতিল হবে?

    উত্তর: না, শুধুমাত্র ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি লিমিটের কিষাণ ক্রেডিট কার্ড থাকলেই এই শর্ত প্রযোজ্য হবে।

    প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গে কয় ধরনের রেশন কার্ড আছে?

    উত্তর: মূলত পাঁচ ধরনের— AAY, SPHH, PHH, RKSY I এবং RKSY II।

    প্রশ্ন: ‘স্মার্ট রেশন’ ব্যবস্থা কবে চালু হচ্ছে?

    উত্তর: প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই, তবে কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)