রাজ্যে শুরু হল ১৬তম জনগণনার কাজ। এ বারে জনশুমারিতে সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াকে ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’ বলা হচ্ছে। শনিবার সল্টলেকের সেচ দপ্তরের বাংলোয় বসে এই প্রক্রিয়া সেরে জনগণনার কাজের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষকেও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আশ্বাস দিলেন, ‘কারও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হবে না।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বার জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় জনগণনা হবে। স্বগণনাও করতে পারবেন বাংলার মানুষ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজে সেটা করলাম। জনগণনার কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের সহযোগিতা করার আবেদন করছি।’ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ‘আপনারা স্বগণনার সুবিধা নিন। আপনাদের তথ্য শুধুমাত্র সরকারি পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের স্বার্থেই ব্যবহৃত হবে। অপব্যবহার করার সুযোগ নেই। আমাদের স্লোগান হলো, জনগণের জনকল্যাণ।’
স্বগণনার জন্য যে পোর্টালটি চালু হয়েছে, সেটির হলো— https://se.census.gov.in। এই ওয়েবসাইটে লগ–ইন করতে হবে স্বগণনায় অংশ নেওয়া যাবে। আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া। তার পরের দিন থেকেই দ্বিতীয় দফায় শুরু হবে ‘ফিল্ড এনিউমারেশন’। এই প্রক্রিয়া চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
‘সেল্ফ এনিউমারেশন’ প্রক্রিয়ায় বাড়িতে বসেই কোনও নাগরিক সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ–ইন করে নিজের তথ্য, অর্থাৎ তিনি কোন রাজ্যের বাসিন্দা, বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ই–মেল আইডি জমা দেবেন। পরের ধাপে থাকছে পছন্দের ভাষা সিলেক্ট করার বিষয়। এগুলি ফিলআপ করার পরে আবেদনকারীর রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাবে।এরপরে ধাপে ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যেখানে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। এরপরে হাউস লিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। সেটি দেওয়ার পরে আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। যা থেকে আবেদনকারী দেখে নিতে পারবেন সব তথ্য ঠিকঠাক রয়েছে কি না। সব শেষে ‘ফাইনাল সাবমিট’ করতে হবে। অনলাইনে ফর্ম ফিলআপের পরে আবেদনকারীর কাছে একটি নির্দিষ্ট আইডি আসবে, যেটিকে সেভ করে রাখতে হবে অথবা ওই আইডি–র নম্বর লিখে রাখতে হবে।