• সিনেমার গল্পকেও ফ্যাকাশে করে দিল বারুইপুরের ৩ ভাই! জলদাপাড়ার 'মিশন গণ্ডার' সফল করতে বিরাট ড্রামা
    News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • : মোবাইলে জলদাপাড়ার গণ্ডার, হাতি, জলহস্তী দেখে সেগুলি দেখার ইচ্ছা জাগে কিশোরদের। এর যার জেরে বাড়ি ছেড়ে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে চাপে বারুইপুরের নাবালকরা। খবর পেয়েই কিষণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয় সকলকে। মোবাইলে জঙ্গলের ভিডিও দেখে হাতি, গণ্ডার আর জলহস্তী দেখার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নই তিন নাবালক ভাইকে পৌঁছে দিয়েছিল উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে। তবে রেল পুলিশের তৎপরতায় মাঝপথেই থেমে যায় তাদের সেই অভিযানের পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত কিষানগঞ্জ স্টেশন থেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুরের মল্লিকপুরের বাসিন্দা তিন ভাইয়ের বয়স যথাক্রমে ১৫, ১৩ ও ১১ বছর। তারা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত দু’মাস ধরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে জঙ্গলের বন্যপ্রাণী দেখার পরিকল্পনা করছিল তারা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে চার হাজার টাকা, জামাকাপড়, রান্নার হাঁড়ি, কাঁথা-চাদর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। এমনকি জঙ্গলে তাঁবু খাটিয়ে থাকার জন্য একটি ত্রিপলও কিনেছিল তারা।

    তিন ভাইকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। বহু খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান না মেলায় ২৯ জুলাই সকালে বারুইপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর এসআই শঙ্কর অধিকারীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, ছেলেদের পাহাড় ও বন্যপ্রাণীর প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল। প্রায়ই তারা উত্তরবঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলত। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা অনুমান করেন, তারা উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে উঠতে পারে। শিয়ালদহ স্টেশন ও রেল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন নাবালকের ছবি বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়।

    এরই মধ্যে খবর আসে, কিষানগঞ্জ স্টেশনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা তিন নাবালককে আটক করেছে রেল পুলিশ। ছবি মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর বারুইপুর থানার পুলিশ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিষানগঞ্জে পৌঁছে তিন ভাইকে উদ্ধার করে। তদন্তকারী অফিসার জানান, তিন ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল একদিন জলদাপাড়ায় থেকে হাতি, গণ্ডার ও জলহস্তী দেখে ফিরে আসার। সেই কারণেই তারা প্রয়োজনীয় সব জিনিস সঙ্গে নিয়েছিল। বর্তমানে তিন নাবালককে ব্যারাকপুরের একটি হোমে রাখা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় সন্তানদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)