বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নিজামউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তে আরও বড় সাফল্য পেল পুলিশ। শনিবার তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে আরও ৪২.৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩৫.৫ কোটি টাকা (প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা) বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ করা হয়েছে।
এর আগে অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৫০.৫ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সোনা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮৬ কোটি টাকার সম্পত্তি ও অর্থ বাজেয়াপ্ত বা ফ্রিজ করা হয়েছে। তদন্তে টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তিরও হদিশ মিলেছে। ইতিমধ্যেই ২৪২টি যানবাহন, দুটি পেট্রোল পাম্প এবং ২১টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউজ-সহ একাধিক মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি।
আরও পড়ুন– ২০০৯ সাল থেকেই আলাদা থাকছিলেন, অবশেষে ১৭ বছর পর ওমর আবদুল্লা ও তাঁর স্ত্রী পায়েলের ডিভোর্সে সম্মতি সুপ্রিম কোর্টের
এদিকে, টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ৫০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পদ (প্রায় ২২ কোটি টাকার সোনা এবং ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ) উদ্ধারের ঘটনায় টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নিজামউদ্দিনের বিরুদ্ধে নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট (NBW) জারি করেছে আদালত। তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
এই মামলায় মিনার মণ্ডলকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং সংগঠিত অপরাধে জড়িত থাকার ধারা। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
আরও পড়ুন– বাস্তবের ‘ধুরন্ধর’ শ্যুটআউট ! পাকিস্তানের লিয়ারিতে গ্যাংস্টার উজাইর বালোচের ভাইকে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
বীরভূমের পাথর-সম্রাট, নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। আত্মীয় মিনার মণ্ডল গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, টুলু মণ্ডল কোথায়? তদন্তকারীদের আশঙ্কা, দুবাই হয়ে তুরস্কে তাঁর গা ঢাকা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে পরিবারকে নিয়ে দুবাই যান নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাসের পরিবারও। তদন্তকারীদের অনুমান, সেখান থেকে তুরস্ক হয়ে অন্য কোনও দেশে যেতে পারেন টুলু মণ্ডল। বর্তমানে তাঁর চারটি ফোনই সুইচড অফ বলে জানিয়েছে পুলিশ।