পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের অ্যাকাউন্ট থেকে ফ্রিজ় আরও ৪২.৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৫.৫ কোটি টাকা ফ্রিজ় করা হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে। এর আগে টুলুর ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে মিলেছে প্রায় ১৫ কেজি সোনা। এ ছাড়াও টুলুর ২৪২টি গাড়ি, দু’টি পেট্রল পাম্প এবং ২১টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
মিনার টুলুর তুতো ভগ্নিপতি। মিনারের বাড়িতেই প্রথম হানা দেয় বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। প্রায় দু’দিনের অভিযানে মিনারের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ টাকা, সোনার বার উদ্ধার হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এ সম্পত্তি টুলুর, যিনি তৃণমূল জমানায় কেষ্ট-ভূমে বহু দূর পর্যন্ত শিকড় মেলেন।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন, ‘আগের সরকার থাকাকালীন অনুব্রত মণ্ডল এবং তার পরে কাজল শেখের তত্ত্বাবধানে টুলু মণ্ডলের এই ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল।’ অন্য দিকে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহারও বক্তব্য, ‘অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন যে উনি যখন জেলা সভাপতি ছিলেন, তখন সাড়ে তিন কোটি টাকা করে জমা দিতেন। কিন্তু আমি রেকর্ডে তো সে রকম কিছু দেখতে পাচ্ছি না। তা হলে এই টাকাগুলোই কি সেই টাকা?’
তবে টুলুর সঙ্গে নাম জড়ানোয় যারপরনাই বিরক্ত অনুব্রত মণ্ডল। তিনি শুক্রবারই এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বিজেপি বলছে না। এই কথা বলছে আপনাদের মতো সাংবাদিকরা। টুলু মণ্ডল বীরভূমের ছেলে। তার সঙ্গে গোটা বীরভূম জেলার মানুষের ঘনিষ্ঠতা। টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়েতে সব নেতা, সাংবাদিক গিয়েছিল, আমি কিন্তু যাইনি। আমি তখন জেলা প্রেসিডেন্ট ছিলাম। ফলে আমার কাছে যে কেউ আসতে পারে।’
মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল টাকা ও সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নাম জড়ায় টুলু মণ্ডলের। তারপর থেকেই জেলা জুড়ে চলছে টুলু মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ডেরায় তল্লাশি। গ্রেপ্তার হওয়ার পরে আপাতত মিনার মণ্ডলকে আদালত আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। অন্য দিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটক করা হয়েছে পাঁচ জনকে।
শুক্রবার টুলুর দাদা মসির মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। অফিসে বসে তা মনিটরিং করেন পুলিশ সুপার নিজে। এ ছাড়াও হানা দেওয়া হয় টুলুর পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার খোদাবক্সের বাড়ি ও সংলগ্ন মাদ্রাসায়। মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভানেত্রী শম্পা মাহারার বাড়িতে, টুলু-ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী সারতাজ মোল্লা এবং আপেল মর্তুজার বাড়িতেও হানা দেয় পুলিশ। শনিবার ফের মিনারের বাড়িতে তল্লাশি চলছে।
টুলু মণ্ডলের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট কত টাকা ফ্রিজ় হয়েছে?
এখনও পর্যন্ত মোট ১৩৫.৫ কোটি টাকা ফ্রিজ় করা হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে।
মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কী কী উদ্ধার হয়েছিল?
সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল তাঁর বাড়ি থেকে।
টুলুর আর কী কী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে?
তাঁর ২৪২টি গাড়ি, দু'টি পেট্রল পাম্প এবং ২১টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে টুলুর সম্পর্ক নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
বিজেপি নেতা উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, অনুব্রত মণ্ডল ও পরে কাজল শেখের তত্ত্বাবধানে টুলুর ব্যবসার প্রসার ঘটেছিল।
অনুব্রত মণ্ডল এই অভিযোগের জবাবে কী বলেছেন?
তিনি টুলুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবি অস্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজনকে আটক করা হয়েছে?
মিনার মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক তল্লাশি অভিযানে আর কাদের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে?
টুলুর দাদা মসির মণ্ডল, পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার খোদাবক্স, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী শম্পা মাহারা এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সারতাজ মোল্লা ও আপেল মর্তুজার বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়েছে।