কলকাতার স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিল পৌঁছে দেওয়া শুরু করল ইসকন। শনিবার তারাতলায় ইসকন পরিচালিত অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া যাঁরা আপত্তি তুলেছিলেন, এই ব্যবস্থায় পড়ুয়ায় ডিম পাবেন না বলে যাঁরা দাবি করেছিলেন, সেই বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘আশা করি, আপনারা এ বার মুখটা বন্ধ রাখবেন। হিংসারিপু দমন করুন।’
শনিবার দুপুরে ইসকনের অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রথমে যজ্ঞে যোগদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তার পরে মুখ্যমন্ত্রী ফিতে কেটে উদ্বোধন করেন মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের। রান্নার কাজে হাতও লাগান শুভেন্দু। ইসকন জানিয়েছে, এই রান্নাঘর সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং স্মার্ট কিচেন। এই রান্নাঘরে বসেই দেখা যাবে মিড-ডে মিল নিয়ে যাওয়া কোন গাড়ি, কত দূরে পৌঁছল। গাড়িতে থাকবে জিপিএস। মুখ্যমন্ত্রী সবুজ পতাকা দেখানোর পরে বিভিন্ন স্কুলের উদ্দেশে রওনাও দেয় মিড-ডে মিল বহনকারী গাড়ি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন ৫০০ স্কুলে ইসকনের মিড-ডে মিল পৌঁছবে। ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী এই মিড-ডে মিল পাবে। তবে আগামী দিনে সংখ্যা বেড়ে আড়াই লক্ষ হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মিড-ডে মিলে খাবারে মেনুতে থাকবে— ১. ভাত অথবা খিচুড়ি অথবা পোলাও। ২. পনির অথবা ছানা। ৩. সয়াবিন অথবা মরশুমি সব্জি অথবা বাদাম। ৪. মিষ্টি অথবা মরশুমি ফল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সনাতনী সংস্কৃতি মেনে ইসকন আহার দেবে।’
কলকাতার স্কুলে ইসকনকে রাজ্য সরকার মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার পরেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা হলে কি মিড-ডে মিলে ডিম-মাংসের মতো আমিষ খাবার দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এ বার? তা নিয়ে মামলাও হয় কলকাতা হাইকোর্টে। তার পরেই সরকার জানিয়ে দেয়, মিড-ডে মিলে ডিম বন্ধ করা হবে না। ইসকনের যেমন মিড-ডে মিল দেওয়ার কথা, তেমনই দেবে। তবে সরকার আলাদা করে বাচ্চাদের ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। মুখ্যমন্ত্রী শনিবার জানান, সপ্তাহে ২ দিন ডিম দেওয়া হবে।
এই বিতর্ক নিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘অনেকে আন্ডা-আন্ডা করে চিৎকার করেছিলেন। আমরা ওডিশায় দল পাঠিয়েছিলাম। আমরাও ডিম দেব। শান্তিতে থাকুন। বিরোধীরা মুখ বন্ধ করবেন আশা করব। হিংসারিপুকে দমন করুন।’ এ প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার যে মিড-ডে মিল ব্যবস্থা চালু করেছে, তারও প্রসঙ্গ টানেন শুভেন্দু। বলেন, ‘যারা সমালোচনা ছাড়া গত ৫০ বছরে কিছু করেনি, তাদের বলব আপনারা পারলে এক দিন স্কুলে যান। ৪৪ হাজার পড়ুয়ার পাতে যে মিড ডে মিল আমরা পৌঁছে দিয়েছি, তা একবার চেখে আসবেন।’
মিড ডে মিলের রাধুঁনিদের বিক্ষোভ নিয়েও শুভেন্দু বলেন, ‘ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ায় যারা বলছিল, মিড ডে মিলের রাঁধুনিদের কাজ চলে যাবে, তাদের আশ্বস্ত করে বলছি, কোনও রাঁধুনি বঞ্চিত হবেন না। রান্না করা-খাবার সরবরাহ করার কাজে ইসকন তাঁদের যুক্ত করবে। অগস্ট মাস থেকে তাঁদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে। ২০০০ টাকা থেকে তা বেড়ে হচ্ছে ৩০০০ টাকা।’