'জঙ্গি' হামিমের সঙ্গে অর্পিতার প্রেমকাহিনি প্রকাশ্যে
আজকাল | ০১ আগস্ট ২০২৬
কৌশিক রায়
শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগের অভিযোগে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
সেই তদন্তের সূত্র ধরেই শনিবার ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। হামিমের বান্ধবী অর্পিতার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
এসটিএফ সূত্রে খবর, অর্পিতা হানিট্র্যাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রভাবশালীদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে হানি ট্র্যাপে ফেলে তাঁকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের মতলব করেছিলেন অর্পিতা।
কিন্তু তার আগেই এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। তদন্তে উঠে এসেছে অর্পিতা এবং হামিমের প্রেমের কাহিনিও। জানা গিয়েছে, অর্পিতার মামার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া এলাকায়।
সেখানে বেড়াতে এসেই প্রথম হামিমের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল অর্পিতার। তারপর দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু’জনে মিলে সারা কলকাতা ঘুরে প্রেম করতেন বলে জানা গিয়েছে।
পরে, হামিম নিজেই তাঁর প্রেমিকাকে শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। ধীরে ধীরে অর্পিতা নিজেই ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে ভাল মতো ভিড়ে যান। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে অর্পিতা ধীরে ধীরে প্রেমিক হামিমের কথায় হানিট্র্যাপের সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানা গিয়েছে।
এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিম এবং অর্পিতার বিরুদ্ধে UAPA আইনে মামলা দায়ের করা হবে। অর্থাৎ, দু'জনের বিরুদ্ধেই বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
তাঁকে হেফাজতে রেখে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন এসটিএফের আধিকারিকরা। প্রসঙ্গত, শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এক জঙ্গিকে। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে এসটিএফের জালে কাশ্মীরের এই জঙ্গি।
গ্রেপ্তার হয় হামিম মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠছে। এমনটাই রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে। শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গে এই জঙ্গির সরাসরি যোগ রয়েছে বলেও খবর মিলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতের নাম হামিম মন্ডল। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
ধৃতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চালানো হচ্ছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং এরাজ্যে অন্য কোনও জঙ্গি চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।