আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হল জনগণনার কাজ। শেষ বার জনগণনা হয় ২০১১ সালে। তারপর দীর্ঘ ১৫ বছর ফের রাজ্যে আদমশুমারি হচ্ছে। শনিবার সল্টলেকের সেচ দপ্তরের বাংলোতে প্রথম জনগণনার কাজ করে আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৬তম জনগণনায় এ বার সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই নিজেদের তথ্য নথিবদ্ধ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াকেই 'সেলফ এন্যুমারেশন' বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী জনগণনার এ দিন আশ্বাস দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ নির্দ্বিধায় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। বলেছেন, 'কারও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হবে না। এ বার জনগণনা হবে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়। নিজেরাই স্বগণনা করতে পারবেন রাজ্যের মানুষ। আমিও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ সেটা করলাম। এ জন্য জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, "আপনারা স্বগণনার সুবিধা নিন। আপনাদের তথ্য চুরি হবে না। শুধুমাত্র সরকারি পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের স্বার্থেই ব্যবহার করা হবে সমস্ত তথ্য। তাই অপব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই। আমাদের স্লোগান, জনগণের জনকল্যাণ।"
উল্লেখ্য, আদমসুমারির স্বগণনার জন্য রাজ্যের তরফে যে পোর্টালটি চালু হয়েছে, সেটি হল— https://se.census.gov.in। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে লগ–ইন করে স্বগণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হবে আগামী ১৫ অগস্ট। দ্বিতীয় দফায় শুরু করা হবে 'ফিল্ড এন্যুমারেশন'-এর কাজ। সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর।
প্রসঙ্গত, 'সেলফ এন্যুমারেশন' প্রক্রিয়াটি বাড়িতে বসেই ডিজিটালি করতে পারবেন। নির্ধারিত পোর্টালে লগ–ইন করে নিজেদের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। যেখানে উল্লেখ করতে হবে কোন রাজ্যের বাসিন্দা, বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ই–মেল আইডি-ও। পরবর্তী ধাপে পছন্দের ভাষা বেছে নিতে হবে। ফর্ম ফিল আপ করার পর আবেদনকারীর নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি যাবে।এরপরে আবেদনকারীদের ধাপে ধাপে উল্লেখ করতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখা যাবে। সেখানে নিজেদের বাড়ির অবস্থান দেখতে পারবেন নাগরিকেরা। পরবর্তী ধাপে হাউস লিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে পোর্টালে। এর পর 'প্রিভিউ স্ক্রিন' অপশন দেখা যাবে। আবেদনকারীরা সেখান থেকেই ফের দেখে নিতে পারবেন সব তথ্য সঠিক ভাবে পূরণ হয়েছে কিনা। শেষে 'ফাইনাল সাবমিট' অপশনে ক্লিক করতে হবে। ডিজিটাল ফর্ম ফিলআপের পরে আবেদনকারীর কাছে একটি আইডি আসবে। সেটি নিজের কাছে সেভ করে রাখতে হবে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে।