• রাঁধুনি ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ বাতলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
    আজকাল | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া

    রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচিতে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার কলকাতায় ইসকনের অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মেগা কিচেন থেকে প্রস্তুত পুষ্টিকর মিড-ডে মিল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম পর্যায়ে কলকাতা পুর এলাকার ৫০০টি সরকারি ও সরকার-পোষিত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৪ হাজার পড়ুয়া এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিষেবা সম্প্রসারণ করে প্রায় আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই প্রকল্প নিয়ে শিক্ষা দপ্তর, অর্থ দপ্তর এবং মুখ্যসচিবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়। পরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং বাজেটে বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্পটি কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী পোষণ (PM POSHAN) প্রকল্পের আওতায় রাজ্য সরকার ও অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই পরিষেবা চালু হয়েছে।

    তিনি বলেন, “আধুনিক মেগা কিচেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়গুলিতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু মিড-ডে মিল বিতরণ নয়, বরং স্কুলছুটের হার কমানো, ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টির মান উন্নত করা এবং সরকারি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো।”

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের জন্য রাজ্য সরকার মাথাপিছু বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরেও একই হারে বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পরিবেশনের জন্য সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি দাতা সংস্থা ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

    মেনু নিয়ে বিতর্কের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইসকনের নিজস্ব সাত্ত্বিক খাদ্যনীতি অনুসারেই ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, পনির বা ছানা, সয়াবিন, মৌসুমি সবজি, বাদাম, মিষ্টি ও মৌসুমি ফল পরিবেশন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন আলাদাভাবে সেদ্ধ ডিম বিতরণ করবে রাজ্য সরকার, যা ইসকনের খাবারের অংশ হবে না।

    মিড-ডে মিল কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কোনও রাঁধুনি বা সহায়ক কর্মীর চাকরি যাবে না। তাঁদের রান্না ও বিতরণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে।” পাশাপাশি তাঁদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।

    প্রশাসনের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই উদ্যোগে শিশুদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত মধ্যাহ্নভোজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলাই সরকারের লক্ষ্য।
  • Link to this news (আজকাল)