• কলকাতা বইমেলায় আসতে চান তসলিমা, আর্জি, 'দরজা যেন খোলাই থাকে'
    আজ তক | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা নাসরিন। লাল পাড় সাদা শাড়িতে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখতেই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এই শহর। শনিবার রবীন্দ্র সদনে তাঁর বইপ্রকাশ অনুষ্ঠান রয়েছে। তার আগে শহরের আনাচে কানাচে লেখিকার পোস্টারে ছয়লাপ। ওসমান গনি মালিকের সেক্যুলার মিশনের উদ্যোগে লেখিকাকে সম্বর্ধনা জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে অংশ নেবেন বাংলাদেশের লেখকরাও। কিন্তু নিজের দেশে আর কখনওই ফিরে যেতে চান না এই বাংলাদেশি লেখিকা। সে কথা ভাগ করে নিলেন আজ তক-এর সঙ্গে। 

    একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে তসলিমা বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'যে দরজাটা একটা সময়ে বন্ধ ছিল, তা অবশেষে খুলেছে। আমি চাই এই দরজাটা খোলাই থাকুক, যাতে আমি যখন খুশি এখানে এসে বাংলার মুক্তি ও নির্মল বাতাসে শ্বাস নিতে পারি।'

    যাঁরা তাঁকে বাংলা ছাড়তে বাধ্য করেছিল, তাঁদের প্রতিও বার্তা দিয়েছেন তসলিমা। তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। যদি আত্মপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান না করা হয়, যদি বাকস্বাধীনতা না থাকে, যদি বই নিষিদ্ধ করা হয় বা মানুষকে দেশছাড়া করা হয়, তাহলে মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘিত হয়। এটা গণতন্ত্রকে হত্যা করার সমান। আমি বিশ্বাস করি, যিনি গণতন্ত্রকে ভালোবাসেন, তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমর্থন করা উচিত।'

    তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশে ফেরার ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় না বাংলাদেশে নিজের বাড়িতে ফেরাটা কখনও সম্ভব হবে। কলকাতায় ফেরা সম্ভব হল কারণ এখানে প্রগতিশীল মানুষ থাকেন। আমার মনে হয় না এই জীবনে আমি কখনও বাংলাদেশে যেতে পারব। যদি তা হয়, তবে তা আলৌকিকের চেয়ে কম কিছু হবে না।' লেখিকার সংযোজন, 'তবে আমি খুশি, বাংলার এই অংশে আসতে পেরেছি। এটাই এখন আমার দেশ।'

    উল্লেখ্য, তসলিমা নাসরিন ১৯৯৪ সালের ৮ অগাস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। যদিও ২০১১ সালের পর তসলিমা দিল্লিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ অটুট ছিল। তিনি বহুবার বলেছেন, যখনই তিনি কলকাতায় আসেন, দেশভাগের যন্ত্রণা তাঁর হৃদয়ে নতুন করে জেগে ওঠে।

    তসলিমা নাসরিনকে প্রশ্ন করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী সরকারগুলি কখনও তাঁকে বাংলায় ফিরে আসার কথা বলেছিল কি না। উত্তরে তিনি বলেন, 'তারা আমাকে কখনও আমন্ত্রণ জানাননি। এটি ধর্মনিরপেক্ষ ট্রাস্ট আমায় অনুরোধ করেছিল, তারা চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। এবার তা সফল হয়েছে। কারণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি আরও ঘনঘন আসতে চাই। বিশেষ করে বইমেলা ও সাহিত্য উৎসবের মতো অনুষ্ঠানগুলিতে।' 

     
  • Link to this news (আজ তক)