অন্ধ বিরোধিতা! জেন জি বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) ‘ক্ষমাসুন্দর’ মনোভাব নিয়েও এবার প্রশ্ন তুলে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। তাঁর প্রশ্ন, ‘যে ক্ষমা করার কথা আপনি রিলে বলছেন, সেটা কি শুধু রিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি বাস্তবেও তার প্রতিফল দেখা যাবে? বিক্ষোভকারীদের উপর থেকে মামলাগুলি কি প্রত্যাহার করা হবে?’
আসলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তর-সহ গোটা দেশে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অনেক ক্ষেত্রেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ও ব্যানারের লেখায় এমন ভাষায় ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছাপার অযোগ্য। ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। যা নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও হয়েছে। যদিও শুক্রবার গভীর রাতে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দেন, ওই অশালীন মন্তব্য যারা করছেন, তাঁদের তিনি ক্ষমা করেছেন।
ওই ভিডিও-তে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “ওরা আমার পরলোকগত মায়ের প্রসঙ্গ টেনেও অপমান করেছে। কিন্তু আমি ক্ষমা করে দিতে চাই। সমাজের কাছেও আমার বিনীত অনুরোধ, আমার কথা শুনে ওদের ক্ষমা করে দিন। আসুন, একসঙ্গে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করি।” প্রধানমন্ত্রী বললেন, “সমাজে রাগ, ক্ষোভ যথেষ্ট, অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এর মাঝেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক রাস্তা দেখাতে হবে। সেটা আমাদেরই দায়িত্ব। শাস্তি দেওয়া, দূরে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে কোনও সংশোধনের সম্ভাবনা নেই। দিকভ্রষ্ট ছেলেমেয়েদের কাছে টেনে বোঝাতে হবে।”
যদিও মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রীর সেই ক্ষমাশীল ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তিনি ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওর নিচে গিয়ে মন্তব্য করেন, ‘শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন নাকি বাস্তবেও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলিও প্রত্যাহার করা হবে?’ আসলে বিক্ষোভ প্রত্যাহারের জন্য সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি ‘ককরোচ’রা করেছিলেন, তাতে শর্ত ছিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু ‘আরশোলা’দের অভিযোগ, সব বিক্ষোভকারীদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি, উলটে নতুন করে বিক্ষোভকারীদের খুঁজে খুঁজে এফআইআর করা হচ্ছে। সে কারণেই মোদির ওই ‘ক্ষমা’ ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দীপকে। বস্তুত সিজেপির প্রধান শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আক্রমণাত্মক। এমনকী ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন মোদিকে। তাঁর গায়ের রং নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান কি পড়ুয়াদের ইস্যু ভুলে মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাইছেন।