কেন্দ্রীয় সরকারের E-20 নীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এর মাঝেই পেট্রলের দাম নিয়ে বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সরকারের বক্তব্য, ইথানল ব্লেন্ডিং না করা হলে দিল্লিতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ১২৫ টাকায় পৌঁছে যেতে পারত। পেট্রলে ইথানল মেশানোর নীতি সেই চাপ অনেকটাই কমিয়েছে বলে দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৩৫ ডলারে পৌঁছলে বিপদ আরও বাড়ত। ইথানল মেশানো না থাকলে দিল্লিতে পেট্রলের দাম প্রায় ১২৫ টাকা প্রতি লিটার হতে পারত। ইথানল মিশ্রণের ফলে সেই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনেকটাই সামলানো সম্ভব হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
ইথানল ব্লেন্ডিং নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কি না, খাদ্যশস্যের জোগানে প্রভাব পড়ছে কি না এবং সাধারণ মানুষের গাড়ির মাইলেজ কমছে কি না— এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই সমালোচনার জবাবেই পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ইথানল মিশ্রণকে শুধুমাত্র খরচের দিক থেকে বিচার করলে বিষয়টির সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার সময় এই নীতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে কেন্দ্রের দাবি।
ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি হয়। ইথানল দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় পেট্রলে তার ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
তবে গাড়ির মালিকদের একাংশের অভিযোগ, E20 পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে। পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই কারণে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি গাড়ির ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।
'দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টার্স অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন' এবং 'অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস' যৌথভাবে ৪ অগস্ট ‘পার্লামেন্ট অভিযান’ -এর কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে। ‘টিম ভারত এগেনস্ট দ্য ইথানল স্ক্যাম’ নামক একটি সংগঠনের নেতৃত্বে তাহসিন পুনাওয়ালা ইন্ডিয়া গেট থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত ‘গড্ডি মার্চ’-সহ একাধিক আন্দোলন শুরু করেছেন।
প্রশ্ন: ইথানল না মেশালে দিল্লিতে পেট্রলের দাম কত হতে পারত?
উত্তর: কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি অনুযায়ী, ইথানল ব্লেন্ডিং না থাকলে দিল্লিতে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ১২৫ টাকায় পৌঁছে যেতে পারত।
প্রশ্ন: কোন পরিস্থিতিতে এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির হিসেব কষা হয়েছে?
উত্তর: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৫ ডলারে পৌঁছনোর পরিস্থিতি ধরে এই হিসেব করেছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক।
প্রশ্ন: E20 পেট্রল নিয়ে মূল অভিযোগ কী?
উত্তর: একাংশ গাড়ি মালিকের অভিযোগ, E20 পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমছে এবং পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
প্রশ্ন: E-20 নীতির বিরুদ্ধে কী আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে?
উত্তর: পরিবহণ সংগঠনগুলি ৪ অগস্ট 'পার্লামেন্ট অভিযান'-এর ডাক দিয়েছে, পাশাপাশি 'গড্ডি মার্চ'-সহ একাধিক আন্দোলন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।