• বর-কনে থেকে পাদ্রী—সবাই যমজ, কেরালার বিয়ে যেন রূপকথার গল্প
    এই সময় | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • বরের বেশে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুই যুবক। মুখে লাজুক হাসি। কিন্তু এক ঝলকে গুলিয়ে যেতে বাধ্য। যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একে অপরের প্রতিবিম্ব। একই রঙের ব্লেজ়ার, একই রকমের ট্রাউজ়ার, একই ভঙ্গি— কে অখিল, কে নিখিল, বোঝার উপায় নেই। তাঁরা যমজ ভাই।

    তাঁদের দিকে তাকিয়ে সাদা গাউনে দুই তরুণী। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি, গালে রক্তিম আভা। একই সাজ, একই অলঙ্কার। তাঁরাও যমজ বোন। কিন্তু বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। চার্চের ভিতরে দাঁড়িয়ে চারজনের আট হাত মিলিয়ে দিলেন যে দুই পাদ্রী, তাঁরাও যমজ। বৃহস্পতিবার কেরালার কোট্টায়ামের চঙ্গনাচেরির গির্জার এই বিয়ে যেন এক অভিনব সমাপতনের ক্যানভাস— যেখানে প্রতিটা ফ্রেমেই জোড়ায় জোড়ায় উপস্থিতি।

    চার্চের ঘণ্টা বেজে উঠতেই ম্যাগি মেরি থমাসের আঙুলে আঙটি পরিয়ে দিলেন অখিল কে থমাস। ঠিক তখনই তাঁদের পাশে একই মুহূর্তের আর-একটি প্রতিচ্ছবি। অখিলের যমজ ভাই নিখিলের হাত ধরে দাঁড়িয়ে ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া। সময় যেন একই মুহূর্তকে দু’বার করে আঁকছিল। একই আবেগ, একই হাসি, একই প্রতিশ্রুতি। যেন একই গল্পের চারটি চরিত্র, একসঙ্গেই জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন তাঁরা।

    দুই জোড়া যমজকে আশীর্বাদ করলেন চার্চের দুই পাদ্রী— ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল ও ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল। চার্চের ভিতরে তাঁদের সাহায্যের জন্য ছিলেন আর এক জোড়া যমজ, জেরন জেমস ও জোহন জেমস। রক্তের বন্ধন, বিশ্বাসের বন্ধন আর ভালোবাসার বন্ধন মিলেমিশে একাকার।

    ম্যাগি আর মারিয়ার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল, কোনও দিন বিয়ে করলে যমজ ছেলেকেই করবেন। তবে আরও কিছু শর্ত ছিল তাঁদের। শুধু পাত্র যমজ হলেই হবে না। বিয়ের প্রতিটি ধাপে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, সবাইকেই যমজ হতে হবে। তাঁরা নিজেরাই খুঁজতে শুরু করেন যমজ পাদ্রী। অবশেষে কোট্টানাল্লুরের একটি চার্চের মাধ্যমে তাঁদের সন্ধান মেলে। দুই বোনের কথায়, ‘এটা শুধু বিয়ে নয়। ছোটবেলার স্বপ্নপূরণ। ঈশ্বরই আমাদের ইচ্ছাপূরণ করেছেন।’

    দুই যমজ পাদ্রীর কাছেও এই বিয়েটা ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। মৃদু হেসে তাঁরা বলছেন, ‘এমন সুযোগ জীবনে বার বার আসে না। আমরাও তো যমজ। মনে হচ্ছিল, বিয়ের প্রতিটা মুহূর্ত যেন আমাদেরই জীবনের প্রতিফলন।’

    অখিল ও নিখিল মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত। ম্যাগি ও মারিয়া তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী। কর্মজীবনের ব্যস্ততা তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন পথে নিয়ে গেলেও, যমজ পরিচয়ই যেন মিলিয়ে দিয়েছে তাঁদের। অধিকাংশ বিয়ের ছবি অ্যালবামের পাতাতেই থেকে যায়। কিছু কিছু থেকে যায় গল্প হয়ে। অখিলদের বিয়েটাও ঠিক তেমনই।

    কেরালের কোট্টায়াম জেলার চঙ্গনাচেরি মেট্রোপলিটন চার্চে।

    কারণ বিয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন যমজ। বর, কনে, পাদ্রী এবং বেদির সহকারী— সকলেই ছিলেন যমজ।

    বর— অখিল কে থমাস ও নিখিল কে থমাস।

    কনে— ম্যাগি মেরি থমাস ও মারিয়া মেরি থমাস।

    ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল এবং ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

    ম্যাগি ও মারিয়ার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল, তাঁদের বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে যেন যমজরাই থাকেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এই বিশেষ আয়োজন।

    কোট্টানাল্লুরের একটি চার্চের মাধ্যমে তাঁদের সন্ধান পান দুই বোন।

    অখিল ও নিখিল মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত। ম্যাগি ও মারিয়া তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় (আইটি) কাজ করেন।

    তাঁদের কথায়, যমজদের বিয়ে সম্পন্ন করানো জীবনের এক বিরল অভিজ্ঞতা। এই অনুষ্ঠান তাঁদের নিজেদের যমজ জীবনের স্মৃতিও নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)