মিল্টন সেন, হুগলি: গরুর পাচার আটকে দায়িত্ব বেড়েছে পুলিশের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি এবার দায়িত্বে নতুন সংযোজন হয়েছে গরু লালন পালন করা। সময়ে খাবার দেওয়া, ডাক্তার দেখানো, গুড়ের জল খাওয়ানো, গোবর পরিষ্কার করা ইত্যাদি। খড় বিচুলি, গুড় সব নিয়ে গরুর তত্ত্বাবধান, পুলিশের দায়িত্ব বেশ বাড়িয়েছে সে বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তবে মালিককে দেখতে পেয়ে বারবার ডেকে উঠছে গবাদি পশুগুলি।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেআইনিভাবে গরু পাচার রুখতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার পান্ডুয়ার রোসনা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বেআইনিভাবে গরু পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করে একটি চার চাকার টলি গাড়ি। উদ্ধার হয় পাঁচটি গরু।
জানা গিয়েছে, রাতে একটি গরু বোঝাই চার চাকা গাড়ি পান্ডুয়ার দিক থেকে মহানাদের দিকে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পান্ডুয়া থানার পুলিশ রোসনা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গাড়িটিকে আটক করে। গাড়ির চালক মেটিয়াবুরুজের রবীন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা ধৃত এমডি প্রিন্স পুলিশকে গরুগুলির প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বাজেয়াপ্ত করে গরুগুলি এবং চারচাকা গাড়িটি। ধৃতকে শনিবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠালো পান্ডুয়া থানার পুলিশ।
এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার রাতে খন্যান চৌমাথা সংলগ্ন এলাকা থেকে বেআইনিভাবে গরু পাচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করেছিল নটি গরু এবং একটি চারচাকা টলি গাড়ি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পনেরোটি গরুর ঠাঁই হয়েছে পান্ডুয়া থানায়। পুলিশের তত্ত্বাবধানে থানায় রাজার হালে রয়েছে গরুগুলি। তাদের জন্য আনা হয়েছে দশ কাহন খর। এসছে গো-খাদ্য। তাদের চিকিৎসার জন্য দুবেলা আসছেন সরকারি ডাক্তার। প্রতিটি গরুর জন্য বরাদ্দ ১০০ গ্রাম করে গুড়। এক বালতি জলে গুড় গুলে তিন বেলা করে খাওয়ানো হচ্ছে গরু গুলিকে। রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে মালিক না থাকলেও সরকারি অতিথি হয়ে পুলিশের নজরদারিতে রাজার হালে দিন কাটছে গরু গুলির।