আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবেশ দূষণ রোধে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং দিঘার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দপ্তরের একাধিক আধিকারিক।
মন্ত্রী প্রথমে পূর্ব মেদিনীপুরের পিছাবনী এলাকায় অবস্থিত মীর মমরেজ আলির কেএনসি এগ্রো লিমিটেড-এর চিংড়ি প্রসেসিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। অভিযোগ ছিল, প্রসেসিংয়ের পর নির্গত নোংরা ও পচা জল নদী-নালা ও খালে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কারখানার বর্জ্য শোধন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রক্রিয়াকরণের পর নির্গত বর্জ্য জল প্রায় ১০টি ধাপে (লেয়ারে) শোধনের মাধ্যমে পরিশ্রুত করা হচ্ছে। এ জন্য কারখানায় একাধিক রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়েছে। পরিশোধিত জলের মান পরীক্ষা করতে কয়েকটি চৌবাচ্চায় মাছও ছাড়া হয়েছে। পরিশেষে কৃষি কাজে সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেই সব পলি। কোম্পানির দাবি, এই সম্পূর্ণ বর্জ্য শোধন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর মমরেজ আলি জানান, তাঁদের প্রসেসিং সেন্টারে জেলা, ভিন জেলা, কলকাতা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার কর্মী কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকশো কোটি টাকার প্রক্রিয়াজাত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি করে। তিনি স্বীকার করেন, ২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় একটি রিজার্ভার ফেটে কিছু বর্জ্য জল নদীতে মিশে গিয়েছিল, তবে সেটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। এরপর আরও উন্নত ও আধুনিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ দূষণের কোনও সুযোগ নেই বলেই তাঁর দাবি।
পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, অভিযোগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়েছে।পাশাপাশি জেলার অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানের চিংড়ি প্রসেসিং হাবেও পরিদর্শন করা হবে। কোথাও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূষণ ছড়ায় এমন সব শিল্প কলকারখানা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে বলেও তিনি জানান। এরপর মন্ত্রী দীঘায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার হোটেল ও আবাসনের বর্জ্য জল সরাসরি সমুদ্রে মিশে দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
আধিকারিকরা জানান, যাত্রানালা দিয়ে নির্গত বর্জ্য জল শোধনের জন্য পূর্বে নির্মিত রিজার্ভার ও ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সমুদ্র দূষণ রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।