ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়ছিল সবাই, হঠাৎ 'ভিটামিন' পেয়ে কঠিন কাজ শেষ মাত্র ৬ ঘণ্টাতেই! কীভাবে হল?
News18 বাংলা | ০২ আগস্ট ২০২৬
রাতের অন্ধকারে ভারী যন্ত্রপাতির আওয়াজ ভেদ করে বেলদার রাজ্য সড়কে মহানালা সংস্কারের কাজ চলছিল। পূর্ত দফতরের (পিডব্লিউডি) ত্রুটির কারণে রাস্তার মাঝে একটি বিশাল হাম্প বা ঢিবি তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বেলদায় বিপত্তি ঘটে। এর ফলে শুক্রবার দিনভর ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে এবং ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। এই দুর্ভোগ মেটাতেই শুক্রবার মধ্যরাতে শ্রমিকেরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ফের কাজে নামেন। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতের অন্ধকারে কাজ করা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
ঠিক সেই সময়েই যন্ত্রের কর্কশ শব্দের মাঝে জাদুর মতো ভেসে আসে নচিকেতার সুর। বেলদার স্থানীয় বাসিন্দা এবং নচিকেতার একনিষ্ঠ ভক্ত, সঙ্গীতশিল্পী পান্নালাল জানা শ্রমিকদের ক্লান্তি দূর করতে এগিয়ে আসেন। তাঁর বাড়ির সামনেই মহানালার কাজ চলছিল। শ্রমিক এবং উপস্থিত আধিকারিকদের ক্লান্তি দূর করতে ও সামান্য মনোরঞ্জনের জন্য তিনি একের পর এক নচিকেতার গান গাইতে শুরু করেন। একদিকে রাস্তা মেরামতির হাড়ভাঙা পরিশ্রম, অন্যদিকে পান্নালালের খোলা গলার গান, এক অদ্ভুত সুরেলা পরিবেশের সাক্ষী হয় বেলদা বাজার।
গানের জাদুতে শ্রমিকদের উৎসাহ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রাত ১২টা থেকে সকাল ওটা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করেন তাঁরা। নচিকেতার গানে গানেই রাতারাতি রাস্তার সেই বিপজ্জনক ঢিবিটি সরিয়ে ফেলা হয়। রবিবার পর্যন্ত রাস্তা বন্ধের যে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, তা আর প্রয়োজন পড়েনি। বেলদা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গৌরীশঙ্কর অধিকারী-সহ অন্যান্যরা সারারাত দাঁড়িয়ে কাজের তদারকি করলেও, শ্রমিকদের আসল শক্তি জুগিয়েছিল ওই নিরবচ্ছিন্ন গানের আসর।
ভোর হতেই বেলদার মানুষের জন্য স্বস্তির খবর আসে। দেখা যায়, রাস্তার বাধা সম্পূর্ণ দূর হয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে এবং অন্যতম ব্যস্ত রাস্তাটি জটমুক্ত হওয়ায় বেলদাবাসী স্বভাবতই খুশি। পূর্ত দফতর জানিয়েছে, আগামী দিনে ওই জায়গায় একটি পাকাপোক্ত কংক্রিটের সেতু তৈরি করা হবে। তবে বেলদার মানুষের মুখে মুখে এখন শুধুই এক অদ্ভুত রাতের গল্প, যেখানে নচিকেতার সুর আর মানুষের শ্রম মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।