এই সময়: সিএএ-র মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন মা–বাবা। অথচ ভারতে জন্মানো তাঁদের ছেলের ভারতীয় পাসপোর্ট বহুদিন আগে বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্র। উচ্চশিক্ষার জন্যে ক্যানাডায় যাওয়া সেই যুবক এখন স্টেজ-৪ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় দেশে ফিরতেও পারছেন না। এই অসহায় পরিস্থিতিতে ছেলের পাসপোর্ট ফের চালু করে ভারতে ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা অমল বিশ্বাস।
বাংলাদেশ থেকে ১৯৯২–এ স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে আসেন অমল। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার শ্যামনগরের উকিলবাগানে গড়ে ওঠে তাঁদের নতুন সংসার। ১৯৯৩–এ জন্ম হয় ছেলের। ভারতে বড় হওয়া ওই যুবকের নামে ২০১৩–য় ভারতীয় পাসপোর্ট ইস্যু করেন কর্তৃপক্ষ। ২০২১–এ উচ্চশিক্ষার জন্যে তিনি ক্যানাডায় যান। বিদেশে যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই আঞ্চলিক পাসপোর্ট দপ্তর অভিযোগ তোলে, অবৈধ ভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট নেওয়া হয়েছে। ২০২১–এর ডিসেম্বরে শোকজ় নোটিস দেওয়া হয়। মামলাকারীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব নথি-সহ জবাব জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জবাব বিবেচনা না করে ২০২২–এর ১৮ জানুয়ারি পাসপোর্ট প্রত্যাহার করেন কর্তৃপক্ষ।
পুনরায় পাসপোর্ট ইস্যুর জন্যে একাধিক বার আবেদনেও কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে ক্যানাডায় ওই যুবকের স্টেজ-৪ ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। বৈধ ভ্রমণনথি না থাকায় দেশে ফিরতেও তিনি সমস্যায় পড়েছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এ দিকে সম্প্রতি অমল বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ–তে আবেদন করে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। মা–বাবা ভারতীয় নাগরিক হওয়ার পরে ফের ছেলের পাসপোর্ট ফেরানোর আবেদন করা হয়। কিন্তু তাতেও সাড়া না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।
মামলাকারীর দাবি, ভারতে জন্ম, এ দেশেই বেড়ে ওঠা এবং এক সময়ে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করা এক যুবক আজ মারণব্যাধিতে আক্রান্ত অবস্থায় বিদেশে কার্যত নথিহীন হয়ে রয়েছেন। আদালতের হস্তক্ষেপেই একমাত্র তাঁর দেশে ফেরার পথ খুলতে পারে বলে আশা পরিবারের। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।