অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
'নিট' প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টির' (সিজেপি) ব্যানারে জেন জি়–র এক মাসের আন্দোলনে যেন হঠাৎ পাল্টে দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তথা শাসকদলের অভিমুখ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে যাতে ফের গেরুয়া শিবির সম্পর্কে এমন মনোভাব তৈরি না–হয়, তা নিশ্চিত করতে জেন জ়ি–র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বার্তা মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিজে ইনস্টাগ্রামে অ্যাক্টিভিটিজ় বাড়িয়েছেন, তেমনই একই পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের। সূত্রের দাবি, নতুন প্রজন্মের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলে তুলনায় নবীন সদস্যদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের কোর টিমেও তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের বেশি সংখ্যায় রাখা হতে পারে।
২০ জুলাই সিজেপি–র ডাকে 'সংসদ চলো' অভিযানকে ঘিরে যে পুলিশি নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে, তার প্রেক্ষিতে সেই সময়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়িয়েছিল আরএসএস–এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। সিজেপি–র আন্দোলন ওঠার পরে আবার এবিভিপি গোটা দেশে সক্রিয়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার থেকে এর্নাকুলামে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির দু'দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে৷ সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনার পাশাপাশি সংগঠনের অধিকাংশ শীর্ষ পদাধিকারীই সাফ জানিয়েছেন, পুলিশ যদি 'বাড়াবাড়ি' না করে সিজেপি–র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখত, তা হলে দেশের এত মানুষের সমর্থন পেত না এই আন্দোলন৷
এবিভিপি–র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কির কথায়, 'আমরা বিশ্বাস করি যে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় বা উদ্বেগের সমাধান হওয়া উচিত আলোচনা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে— হিংসা, ভাঙচুর বা রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে নয়।' সংগঠন সূত্রের দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ–সহ সারা দেশে সংগঠনের শক্তি আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এগোবে এবিভিপি৷ বৈঠকের প্রথম দিনেই সংগঠন চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন, দেশের যে কোনও প্রান্তে ঘটা ছাত্র বিক্ষোভের পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাদা টাস্ক ফোর্স গড়ার ব্যাপারে৷
পড়ুয়াদের সুরেই সংগঠনের বক্তব্য, 'পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের জন্য এবিভিপি ধারাবাহিক ভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। পরীক্ষা মাফিয়াদের নির্মূল করতে কঠোর আইন, কার্যকর শাস্তি, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।' এই আবহে নীতিনের কোর কমিটি ও কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরেও ভোল বদলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নীতিনের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে৷ কোর টিমে নতুন প্রজন্মকে বেশি করে জায়গা দেওয়ার পাশাপাশি দলের প্রথম সারির নেতা, সাংসদ, বিধায়ক এবং সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জেন-জি়র কাছে পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন নীতিনও৷
যে ভাবে নমো নিজে ইনস্টাগ্রামে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ভিডিয়ো আপলোড করে জেনারেশন নেক্সটকে বার্তা দিচ্ছেন, আগামী দিনে সেই পথেই হাঁটবেন বাকি মন্ত্রী–সাংসদরা। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের বয়স এখন ৪৫৷ তাঁর অধীনে নবীন প্রজন্মের নেতা–নেত্রীদের আরও বেশি সংখ্যায় যুক্ত করা হলে দল তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণের পাশাপাশি একটা নতুন 'মোমেন্টাম' পাবে বলেই মনে করছেন বিজেপির শীর্ষ স্তর৷