এই সময়, সিউড়ি: কোটি কোটি নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পাথর খাদানের কারবারি টুলু ওরফে নিজাবুদ্দিন মণ্ডলের খোঁজ এখনও মেলেনি। তবে টুলুর আরও বেআইনি সম্পত্তির খোঁজে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরে এ বার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন টুলুর ভাগ্নে শেখ ওয়াসিম। শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে গা–ঢাকা দেওয়ার পথে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে ওয়াসিমকে হাজির করা হলে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এর আগে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের সিউড়ির বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। মিনার এখন পুলিশের হেফাজতেই রয়েছেন। এ দিকে, টুলুর বেআইনি কারবারের ঘটনা সামনে আসতে এ বার বীরভূম জেলা প্রশাসন বেআইনি ভাবে চলার অভিযোগে আটটি পাথর খাদান বন্ধের নোটিস জারি করেছে বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার তদন্তকারীরা মিনার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান। কোন ঘরে কোথায় আলমারিতে টাকা রাখা ছিল, কী ভাবে বিপুল নগদ ও সোনা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তার বিস্তারিত নকশা এবং স্কেচ তৈরি করা হয়। টুলুর কয়েকজন আত্মীয়ের খোঁজ আগে থেকেই চালাচ্ছিল পুলিশ। সন্দেহ, এই আত্মীয়দের মারফতও টাকা পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় টুলুর ভাগ্নে ওয়াসিমকে। তাঁর বাড়ি বীরভূমের সিউড়ির চুড়িপাড়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫–এর ৬ অক্টোবর দায়ের হওয়া অবৈধ পাথর খাদানের একটি পুরোনো মামলায় ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিপুল টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলি সৌকত হাতি জানান, তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ধৃতকে।
টুলুর কর্মকাণ্ড সামনে আসতেই অবৈধ পাথর খাদানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। শনিবার মহম্মদবাজার ও রামপুরহাট এলাকার মোট আটটি বেআইনি পাথরখাদান বন্ধের নোটিস জারি করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদবাজারের দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় টুলুর আত্মীয় আপেল মোর্তাজার খাদান-সহ মনোজ টুডু, শেখ করিবুল, সারতাজ মোল্লা, সুনীল সোরেন এবং শুভ টুডুর খাদান বন্ধের নোটিস টাঙানো হয়েছে। চাঁদা মৌজায় তারক টুডু ও অনিল কিস্কু এবং হাটগাছা মৌজায় বুধন মারান্ডির খাদানেও অভিযান চালিয়ে বেআইনি বলে নোটিস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। গত মাসেও মহম্মদবাজার এলাকায় ন’টি খাদানে একই ধরনের নোটিস জারি হয়েছিল। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, নোটিস দেওয়ার পরেও কয়েকটি খাদানে কাজ চলছিল।
বেআইনি পাথর খাদানের পাশাপাশি বছর খানেক আগে টুলুর একমাত্র মেয়ে সালমার বিয়েতে বিপুল টাকার লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে পুলিশের নজরে রয়েছে। সূত্রের খবর, অতিথিদের তালিকায় ছিলেন টলিউডের তারকা আরবাজ খান, জারিন খান, আসরানি, সঙ্গীতশিল্পী মোনালি ঠাকুরেরা। এক সপ্তাহ ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মুম্বই এবং টালিগঞ্জের আরও অনেক তারকা। সালমার বিয়ে হয় প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘ঘনিষ্ঠ’ ব্যবসায়ী বলে পরিচিত বারিক বিশ্বাসের ছেলের সঙ্গে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গোরু পাচারের ঘটনায় বারিকের নাম জড়িয়েছিল। ২০২১–এর ২৮ জানুয়ারি কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে বারিকের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি চালায়। এর দু’বছর পরে ২০২৩–এর গোড়ায় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন বারিক। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।