এই সময়, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার পুরসভায় চুড়ান্ত ডামাডোল পরিস্থিতি। অভিভাবকশূন্য ওই পুরসভায় লাটে উঠেছে পরিষেবা। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান ইস্তফা দেওয়ায় তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রশাসক বসিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথের আবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। স্বাভাবিক ভাবেই আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক রিচার্ড লেপচা আদালতের নির্দেশের পর আর পুরসভায় প্রশাসকের ভূমিকায় বসতে পারছেন না।
সূত্রের খবর, পুনরায় পুর বোর্ড গঠন করতে কংগ্রেস কাউন্সিলার শান্তনু দেবনাথের সঙ্গে একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলারের মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে পড়ার আতঙ্কে নাকি এখন তৃণমূল কাউন্সিলাররা আর নতুন করে দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। এর জেরে আদালতের নির্দেশের পর দু’দিন কেটে গেলেও বোর্ড গঠনের আবেদনের চিঠি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে জমা পড়েনি। ফলে নতুন করে কংগ্রেসের নেতৃত্বে পুরসভা গঠনের প্রয়াস আপাতত বিশবাঁও জলে।
যদিও শান্তনু শনিবার বলেন, ‘আমরা পুরবোর্ড গঠন করা থেকে মোটেই পিছিয়ে আসিনি। সময়ের কাজ সময়ে ঠিক হবে।’ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক কাউন্সিলার বলেন, ‘রাজ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে ঝুঁকি নিতে যাওয়াটা মোটেই ঠিক কাজ হবে না। সার্কিট বেঞ্চের রায়ের বিরোধিতায় রাজ্য সরকার তো আদালতেও যেতে পারে। তাই আমি এসবের মধ্যে নেই।’ তৃণমূল আরও এক কাউন্সিলার বলেন, ‘পুর পরিষেবা সত্যিই ভেঙে পড়েছে। সমস্যায় পড়লে এখনও বাসিন্দারা আমাদের কাছেই ছুটে আসছেন। আমরা যে পদ কিংবা ক্ষমতায় নেই, সেটা তাঁরা কিছুতেই মানতে চাইছেন না।’
আলিপুরদুয়ার পুরভার ডামাডোল প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক পরিতোষ দাস বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। পুরো বিষয়টি রাজ্য সরকার দেখছে।’