• তান্ত্রিকের নির্দেশে অন্ধবিশ্বাসের ফাঁদে পড়েই আত্মঘাতী যুবক? স্ত্রীকে আটক পুলিশের, রহস্য গোয়ালাপোখরে
    এই সময় | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, গোয়ালপোখর: অন্ধবিশ্বাসের জেরে মৃত্যু, নাকি পরিকল্পিত খুন? উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার সিংনাথ গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকুলিয়া থানার বেলটলি গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আলির(২১) সঙ্গে সিংনাথ গ্রামের নাজিয়া খাতুনের সাত মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। দু’মাস আগে দুই পরিবারের উদ্যোগে সেই বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া হয়।

    মৃতের পরিবারের দাবি, নাজিয়া খাতুনের ওপর অশুভ শক্তির প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা। সে কারণে প্রায় সাত দিন আগে নাজিয়াকে বাপের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, এরপর এক তান্ত্রিকের পরামর্শে সাব্বিরকে তাঁদের খাটের নীচ থেকে মাটি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলা হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নিজের বাড়ির টাইলস খুলে মাটি সংগ্রহ করে শুক্রবার সিংনাথ গ্রামে যান।

    পরিবারের অভিযোগ, ওইদিনই গভীর রাতে তাঁদের কাছে খবর আসে সাব্বির গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃতের পরিবার গোয়ালপোখর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতের স্ত্রী, শ্বশুর-সহ মোট তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন— সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ। মৃতের আত্মীয়দের দাবি, সাব্বিরকে খুন করার পরে দেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত করলে বিষয়টি সামনে আসবে।

    মৃত যুবকের আত্মীয় আস্তারুল হক বলেন, ‘ভালো মানুষটা বাড়ির মাটি নিয়ে সকাল সকাল রওনা দিল আর রাতেই মৃত্যুর খবর। এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে। যাঁরা ওকে খুন করলো সকলের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    স্থানীয় এক বাসিন্দা মহম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি ওদের পারিবারিক ঝামেলা ছিল। সকালে নাজিয়ার স্বামীকে আসতেও দেখেছিলাম, কিন্তু রাতে শুনি ও মারা গিয়েছে। পুলিশ তদন্ত করুক।’ গোয়ালপোখর থানার আইসি পিনাকী সরকার বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে সাব্বিরের স্ত্রী সহ তিনজনকে আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

  • Link to this news (এই সময়)