রবিবারের বাজার করতে বেরোনোর আগে একবার বাজারদর জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে গিয়ে দেখা গেল, মাছের জোগান আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জল জমে থাকায় অনেক মাছ বাজারে পৌঁছাতে পারেনি। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। যদিও বেশ কয়েকটি মাছের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, তবে ইলিশ এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে।
রেগুলেটেড মার্কেট ফিশ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বাপি চৌধুরী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জলাশয় ও পরিবহণ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ায় বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তবে কাতলা মাছের জোগান বর্তমানে ভাল থাকায় তার দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। পাশাপাশি রুই-সহ অন্যান্য বেশ কয়েক ধরনের মাছের দামও গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তাঁর কথায়, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী দিনে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
অন্যদিকে, ইলিশপ্রেমীদের জন্য তেমন সুখবর নেই। বাজারে এখন ডায়মন্ড হারবারের ইলিশ কার্যত নেই বললেই চলে। উড়িষ্যা থেকে আসা ৭৫০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গুজরাটের ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে মিললেও, বিক্রেতাদের মতে সেই মাছের গুণগত মান ডায়মন্ড হারবারের ইলিশের মতো নয়।
সবজির বাজারে অবশ্য বড় কোনও পরিবর্তন নেই। সাধারণ আলুর দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি, ভুটান আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা-রসুনের দামও ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। পটল, করলা, ভেন্ডি-সহ অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে।
রেগুলেটেড মার্কেট ভেজিটেবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শিব কুমার জানান, বর্তমানে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। স্থানীয় ও বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়মিত সবজি আসছে বলেই অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহণ ও সরবরাহে প্রভাব পড়ে আগামী দিনে কিছু সবজির দামে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও তিনি জানান।
সব মিলিয়ে, এই সপ্তাহান্তে শিলিগুড়ির বাজারে ইলিশের দাম এখনও চড়া থাকলেও অন্যান্য মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। অন্যদিকে সবজির বাজারও আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে রবিবারের বাজারে বেরোনোর আগে বাজারদর জেনে পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় বাড়তি খরচ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।