‘আমাদের বহু নেতা মধুতে আসক্ত’, বিস্ফোরক দিলীপ, কাদের বিঁধলেন?
প্রতিদিন | ০২ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়ে এসেছে শুভেন্দুর সরকার। তৃণমূল জমানার দুর্নীতির ফাইল খোলার সঙ্গে, দলীয় কর্মীদেরও বারবার সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে নেতাদের। ভোটের ফল প্রকাশের পর পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে ডিম থেরাপি। বিজেপি কর্মীদের এসব থেকে বিরত থাকতে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এবার তোলাবাজি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বললেন, ” আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে পার্টি নজর রেখেছে চেষ্টা করছে।” কাদের বিঁধে এমন মন্তব্য দিলীপের?
বিরোধী দলের নেতা হোক বা শাসকদলের মন্ত্রী। সর্বদায় ‘দাবাং’ মুডে ধরা দিয়েছেন প্রবীণ নেতা। তিনি মুখ খুললেই সঙ্গে এসেছে বিতর্ক। তবে এবার দলের কর্মীদের উদ্দেশেই বিস্ফোরক বক্তব্য শুনে তাজ্জব সকলে। দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের কথা যে তাঁর নজর এড়ায়নি, এদিন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল জমানার রেশ টেনে তিনি বলেন, “তোলাবাজির সংস্কৃতি এত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিসকে বলা হয়েছে, অভিযোগ আসলেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের বহু নেতা আছে, যারা এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে পার্টি নজর রেখেছে চেষ্টা করছে। পার্টির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এরা খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে যারা মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল তাদের সঙ্গে। মানুষ যে উদ্দেশ্য বদল করেছে সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই।”
শনিবার কলকাতার রাজারহাটের আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কের একটি অনুষ্ঠানে তোলাবাজি নিয়েও সাবধানবাণী শোনার বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “পুরোপুরি তোলাবাজি আটকাতে পারিনি।” বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলের দলীয় রাজনীতির ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা দেন শমীক। দলীয় কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শমীক বলেন, “বিচ্যুতি আছে। আমাদের মধ্যে যাদের সুপ্ত বাসনা ছিল, তারা এখন সক্রিয়।” তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা রাজনৈতিক সমাজের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছি। এর থেকে মুক্তি চাই। প্রত্যকেটা পদক্ষেপে রাজনীতির অনুপ্রবেশ। এর বাইরে যতক্ষণ না পশ্চিমবঙ্গ বেরোতে পারছে, কোনও সরকার পরিবর্তন আনতে পারবে না। বিনিয়োগ আনতে পারবে না।”