এ বার শিল্পপতি অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করল সিবিআই। রিলায়্যান্স ক্যাপিটাল (রিল-ক্যাপ) এবং তার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিলের বিরুদ্ধে কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ইপিএফও) ১৮১৬.২২ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ইপিএফও-য় প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক ২১ জুলাই যে অভিযোগ দায়ের করেছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিলের মুখপাত্র। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে।
সিবিআই-এর এফআইআর অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে রিলায়েন্স ক্যাপিটালের ‘সিকিয়োর্ড নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চার’-এ ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল ইপিএফও। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পাওনা অর্থ মেটাতে ব্যর্থ হয় রিলায়েন্স ক্যাপিটাল পরে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)-এর অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালে ইপিএফও ১,৪৯২ কোটি টাকা ফেরত পায়। তবে মূল অঙ্কের ১,০০৭ কোটি টাকা এবং সুদের ৮০৯ কোটি টাকা— সব মিলিয়ে মোট ১,৮১৬ কোটি টাকা বকেয়া থেকে যায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বিনিয়োগের ফলে ইপিএফও-র যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং পরে এই লগ্নি সংক্রান্ত জালিয়াতির যে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র কাছ থেকে এই খবর জানার পরেই শ্রম মন্ত্রক অভিযোগ দায়ের করে। ইডি জানায়, তারা যে নথি পেয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিল-ক্যাপ এবং সংস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রতারণামূলক লেনদেন করেছেন।
আম্বানীর মুখপাত্রের যদিও দাবি, ‘সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরটি মূলত রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। অনিল আম্বানি ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রিলায়েন্স ক্যাপিটালের নন-এগজ়িকিউটিভ ডিরেক্টর বা চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই বোর্ড বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ করে। অনিল আম্বানি যাবতীয় অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে।’