সংসদ অভিযানের দিনেই শুধু অশান্তি হয়নি। তার পরেও টানা ৬ দিন ধরে পাথর ছুড়েছেন নিট আন্দোলনকারীদের একাংশ। কিন্তু পুলিশ তাতে পাল্টা পদক্ষেপ করেনি। উস্কানিতে পা না দিয়ে তারা সংযম দেখিয়েছে বলেই সেই ভাবে আর সংঘর্ষ বাধেনি। এমনটাই দাবি দিল্লি পুলিশের একটি সূত্রের।
সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে আন্দোলনে কিছু ব্যক্তি পড়ুয়াদের মাঝে ঢুকে পড়েছিলেন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে। তাঁরাই অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন। সংসদ অভিযানের দিন পুলিশ বার বার আন্দোলনকারীদের সংযত থাকার বার্তা দিয়েছিল। অশান্তির ঘটনা থেকে বিরত থাকতে বলেছিল। তার পরেও পুলিশের কথা শোনা হয়নি। উল্টে বিক্ষোভকারীদের কয়েক জন সংসদ সংলগ্ন কড়া নিরাপত্তা বলয়ের কাছে পাথর ছুড়েছেন। ব্যারিকেড ভেঙেছেন। তা আটকাতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের দাবি, সংসদ অভিযানের পরে ২৫ জুলাই পর্যন্ত পাথর ছোড়া চালিয়ে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া মেনে নিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন, ততক্ষণ তা অব্যাহত ছিল বলেই দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের নথিও তারা খতিয়ে দেখেছে বলে দাবি করেছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’। তার ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাথর ছোড়া বা হিংসার ঘটনা কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। সংসদ ভবনের চারপাশে প্রায় ২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তার মধ্যে রয়েছে— রেল ভবনের কাছে রফি মার্গ ব্যারিকেড (সংসদ ভবনের সবচেয়ে কাছের স্পর্শকাতর এলাকা), গোল ডাকখানা, টলস্টয়-জনপথ ক্রসিং (বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও পার্কিং এলাকা), যন্তর মন্তর, কনট প্লেসের এলআইসি বিল্ডিং এলাকা (আউটার সার্কেলের কাছে), স্টেট ব্যাঙ্ক ভবনের কাছে সংসদ মার্গ, প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার কাছে রাইসিনা রোড, রেগাল বিল্ডিং থেকে সংসদ মার্গ-টলস্টয় ট্রাফিক সিগন্যাল এলাকা।
সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিরও খতিয়ান দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নথি অনুযায়ী, ১১০টি ব্যারিকেড ভাঙচুর করা হয়েছে। খোয়া গিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে ১৭১টি দড়ি। চুরি বা নষ্ট হয়েছে ৩৫৫টি হেলমেট, ২৮৫টি বডি প্রোটেক্টর, ৫৪টি নিরাপত্তা ঢাল, ১০টি টর্চলাইট, ২৪টি ফার্স্ট-এড বক্স, ১২টি কম্বল, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি বডি ক্যামেরা, ১০টি হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি মাইক, ২টি পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, তার কাটার ৪টি যন্ত্র, ১০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং একটি এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯টি সরকারি গাড়ি (তার মধ্যে বাস, মোটরবাইক ও টেম্পোও রয়েছে), একটি ওয়াটার ট্যাঙ্কার, একটি ডিটিসি বাস। তা ছাড়া চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, হিংসার ঘটনায় জখম হয়েছেন ২৪৪ জন পুলিশকর্মী এবং ২০৯ জন সাধারণ নাগরিক।