পুলিশের প্রাথমিক কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। কিন্তু সেই কাজে তাদের মন নেই। তারা এখন শুধুই ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। উত্তরপ্রদেশে একটি মামলার শুনানির প্রক্রিয়ায় এমনই মন্তব্য করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এই পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরেই রাজ্য পুলিশের ডিজিকে অভিযুক্ত পুুলিশ অফিসার এবং এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়াল।
হরেন্দ্র যাদব নামে এক ব্যক্তির ট্রাক কালো তালিকাভুক্ত করে দেওয়া নিয়ে একটি মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে। মামলাকারী হরেন্দ্রর অভিযোগ, ট্রাকের মালিকানা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বালিয়া জেলার রসড়া থানার কনস্টেবল সন্তোষ কুমারের বিবাদ ছিল। তার প্রেক্ষিতে ওই থানার সাব-ইন্সপেক্টর শিবমূর্তি তিওয়ারি বলিয়ার সহকারী আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক (এআরটিও)-এর কাছে একটি রিপোর্ট পাঠান। তার ভিত্তিতে গাড়িটি কালো তালিকাভুক্ত করা হয় বলে আদালতে দাবি করেন হরেন্দ্র।
পরে শুনানিতে কনস্টেবল সন্তোষ স্বীকার করে নেন, তিনি তাঁর জিপিএফ তহবিল থেকে টাকা তুলেছিলেন। ব্যবসার জন্য ভাইকে তিনি সেই টাকা দিয়েছিলেন। ভাই ওই টাকা নিয়ে হরেন্দ্রর সঙ্গে যৌথ ভাবে পরিবহণ ব্যবসা শুরু করেছিলেন। একটি ট্রাকও কিনেছিলেন। এই স্বীকারোক্তির পরেই বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘থানাগুলো ব্যবসার জায়গায় পরিণত হয়েছে এবং পুলিশকর্মীরা যে ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ ছেড়ে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন, তা অবাক করার মতো। এ রকম চলতে থাকলে রাজ্যে আর আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু থাকবে না।’
এই মামলায় বলিয়ার পুলিশ সুপার যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করার কথাও বলা নেই। তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, রসড়া থানার পুলিশ আধিকারিক এবং পুলিশ সুপার অভিযুক্ত কনস্টেবলকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এআরটিও-কে যে রিপোর্ট দিয়ে গাড়ি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল, তাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।
পাশাপাশি, ডিজিকে আদালতের নির্দেশ, এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশ কী কী পদক্ষেপ করছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট হলফনামা আকারে ১০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১১ অগস্ট।