• ‘আমাকেও অপমান করা হয়েছে…’, জয় গোস্বামীর অসম্মানে ক্ষুব্ধ তসলিমা, UCC-কে সমর্থন লেখিকার
    এই সময় | ০২ আগস্ট ২০২৬
  • প্রায় ১৯ বছর পরে কলকাতায় পা রাখতে পেরেছেন। বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিনকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। শনিবারের সেই অনুষ্ঠানে এক অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটে। কবি জয় গোস্বামীকে সম্বর্ধনার মঞ্চ থেকে নেমে যেতে হয়। সেই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেন তসলিমা নাসরিন। এই ঘটনায় তিনিও ‘অপমানিত’ হয়েছেন বলে দাবি করলেন লেখিকা।

    রবিবার কলকাতায় একটি সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা বলেন, ‘শুধু জয়কে অপমান করা হয়নি, আমাকেও অপমান করা হয়েছে। কারণ, আমি জয়কে ডেকেছিলাম।’ সম্বর্ধনার মঞ্চ থেকে নারী-পুরুষের সমান অধিকার, সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, কবি-সাহিত্যিকদের কন্ঠরোধ না করার ব্যাপারে সরব হয়েছিলেন তসলিমা। সেই কথা মনে করিয়ে তসলিমা বলেন, ‘আমি যে ভাষণ দিয়েছিলাম, সেখানে বাক স্বাধীনতার কথা বলেছিলাম। সবাইকে কথা বলতে দিতে হবে। কারও কথা বন্ধ করে দেয় ঠিক না।’

    রবীন্দ্র সদনে শনিবারের অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে জয় গোস্বামীকে ডেকে নিয়েছিলেন তসলিমা। তাঁকে কিছু বক্তৃতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়েই দর্শকদের একাংশ প্রবল আপত্তি তুলে চিৎকার করতে থাকেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয় যে জয় গোস্বামীকে মঞ্চে উঠে নেমে যেতে হয়। দর্শকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তসলিমা বলেন, ‘যাঁরা আমার কথা পছন্দ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কি তারা ছিলেন, যাঁরা তাঁকে মঞ্চে উঠতে দেয়নি। তা হলে দু’রকম বিষয় হলো। একজন যখন মতপ্রকাশের কথা বলছেন, তখন সমর্থন করছি। অথচ, বাস্তবে এক কবিকে ডাকা হলে তাঁর কথা শুনতে চাইছি না। এটা ঠিক নয়।’

    শনিবারের অনুষ্ঠানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার কথা জানিয়েছিলেন তসলিমা। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি খুব দরকার। আসলে পৃথিবীর যে কোনও দেশে এই বিধি আছে। এক দেশ, এক আইন চাই। সবার জন্য সমান আইন চাই। নারীদের নিয়ে অনেক বৈষম্য থাকে, সেগুলো চলে যায় যদি আমি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি করি। এটা আবশ্যক।’

    বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা মনে করবে দিয়ে তসলিমা বলেন, ‘সভ্যতার প্রথম শব্দ সমানাধিকার। এখানে মুসলিম মেয়েরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দু মেয়েদের কোনও অধিকার নেই। ওখানে হিন্দুরা মেয়েরা পিতার সম্পত্তির অধিকারী হতে পারে না। হিন্দু মেয়েদের স্বাধীনতা, অধিকার পেতে হলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি দরকার।’

  • Link to this news (এই সময়)