টুলু মণ্ডলের অফিস সিল করল পুলিশ, মেয়ের নামে আছে পেট্রল পাম্প, মঙ্গলকোটে কী মিলল?
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০২ আগস্ট ২০২৬
কোটি কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না দেখে রাজ্যবাসীর চোখ কপালে উঠেছিল। তখনই সামনে আসে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। বেআইনি পথে বিপুল সম্পত্তি করে বিদেশে গা-ঢাকা দিয়েছে। এই টুলু মণ্ডলের আসল নাম নাজিবুদ্দিন মণ্ডল। এই টুলু মণ্ডলের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। টুলু মণ্ডলের কালো টাকা এবং সম্পত্তি রাখতে দেওয়া হয়েছিল মিনার মণ্ডলের কাছে। এই আবহে দুবাইয়ে মেয়ে-জামাইয়ের কাছে গিয়েছেন টুলু। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের পার্কিংয়ের জমির মধ্যে রয়েছে সরকারি খাস জমিও। টুলুর পাথরের ব্যবসা কোনও ট্রেড লাইসেন্সও নেই।
টুলু মণ্ডলের অবৈধ সম্পত্তির হদিশে নানা জায়গায় এখনও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশ। এবার টুলুর আরও সম্পত্তির হদিশ পেতে পুলিশ পৌঁছল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। মঙ্গলকোটের আইমা পাড়া গ্রামে তল্লাশি চালাল টুলু মণ্ডলের ডানহাত এবং আত্মীয় ইফাজুল হকের বাড়িতে। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে একাধিক ট্রাঙ্ক উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও তা নিয়ে পুলিশ মুখ খুলতে চায়নি। তবে তার আগে মিনার মণ্ডলকে নিয়ে টুলুর মূল অফিসে হানা দেয় পুলিশ। মহম্মদবাজার থানা এলাকার সোঁতশালে টুলু মণ্ডলের মূল অফিসে যান তদন্তকারীরা। সেখানে তল্লাশি করে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে সিল করে দেওয়া হয় অফিস।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ইফাজুল পাঁচ বছর ধরে টুলুর পাথর খাদানে কাজ করত। তার বৈভব চরম শিখরে ওঠে। ইফাজুল তার স্ত্রীকে নিয়ে সিউড়িতে থাকে। তিনদিন আগে মঙ্গলকোটের আইমা পাড়া গ্রামে তার বাবার কাছে এসেছিল। আর পুলিশের অভিযান হতে পারে বুঝতে পেরেই ইফাজুল শনিবার ভোরে চিকিৎসার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পুলিশ টুলু মণ্ডলের খোঁজের সঙ্গে সঙ্গে তার সহযোগীদেরও খোঁজ চালাচ্ছে। টুলুর বিপুল সাম্রাজ্যের হদিশ পেতে চাইছে পুলিশ। আবার টুলু মণ্ডলের ভাগ্নে শেখ ওয়াসিম পুলিশের হাতে আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকে জেরা করেই মঙ্গলকোটের হদিশ পায় পুলিশ বলে সূত্রের খবর। নেপালে পালানোর ছক কষেছিল ওয়াসিম। সেখানে গা-ঢাকা দিতে পারলেই পুলিশ আর ধরতে পারবে না। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বা ছক বাস্তবায়িত হয়নি। দার্জিলিং থেকে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তাছাড়া টুলুর মেয়ের নামে একটি পেট্রোল পাম্পের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। সেটি সিজ করেছে পুলিশ। টুলুর আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুই হিসাবরক্ষক পুলক দে এবং রেখিউল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আর টুলুর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার জানিয়েছেন, টুলু মণ্ডলের মেয়ে শালমা অন্তঃসত্ত্বা। তাঁরা দুবাইয়ে আছেন। উল্লেখ্য, সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি আন্তর্জাতিক মানের সোনা ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে।