প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কুকথা বলার জন্য একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছিলেন নয়ডার নাবালিকা। রবিবার তার মা সংবাদমাধ্যমের সামনে মেয়ের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেন। প্রধানমন্ত্রীর মোদীর ক্ষমার সিদ্ধান্ত তাঁর মেয়েকে ‘জীবনদান’ দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকী, প্রধানমন্ত্রী যেন তাঁর মেয়েকে দত্তক নেন ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য সে ব্যাপারেও আবেদন জানান তিনি।
একটি সংবাদমাধ্যমে নাবালিকার মা বলেন, ‘মেয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছিল, তাকে ক্ষমা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। আজ মেয়েটির জন্মদিন, আর প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে দিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার—জীবনদান। আজ মেয়েটি যেন নতুন জীবন পেল।’ এর পরেই নাবালিকার মা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘মোদীজি, আমার অনুরোধ মেয়েকে দত্তক নিন এবং ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করুন। আমরা লজ্জিত এবং পুনরায় আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি।’
নাবালিকার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে নানা হুমকি আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই নাবালিকাকে নানা ধরনের অশ্লীল ভাষায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন নাবালিকার মা। মেয়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছে। সেই এফআইআর যাতে তুলে নেওয়া হয়, সে ব্যাপারেও আবেদন জানিয়েছেন নাবালিকার মা। এমনকী, এফআইআরে ওই নাবালিকার বয়স ভুল উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই নাবালিকার মা। তিনি শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অল্পবয়সিরা অনেক সময়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝেই অন্যের প্ররোচনায় এমন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির সময়ে ওই নাবালিকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনায় নয়ডায় একটি জ়িরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরে অভিযোগের ঘটনাস্থল দিল্লি হওয়ায় মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে নাবালিকা একটি ভিডিয়ো বার্তায় নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চায় এবং দাবি করে, প্রতিবাদস্থলে অন্যদের কথায় প্রভাবিত হয়েই সে ওই মন্তব্য করেছিল। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে নিজের ‘প্রথম ও শেষ ভুল’ বলেও উল্লেখ করে সে।