স্কুল, কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। কয়েকমাস আগেই নির্দেশিকা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এ বার হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে বিড়ি,পান, সিগারেট, গুটখা-সহ কোনও নেশার দ্রব্যের দোকানের অনুমতি দেওয়া হবে না। রবিবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘হাসপাতাল চত্বরের একশো গজের মধ্যে কোনও পান, বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, মদের দোকান থাকবে না। এটা আইন আছে। আমরা দেখে নিয়েছি। সেটাকে কঠোর ভাবে লাগু করা হবে। হাসপাতালের মধ্যে গুটখা, পান খাওয়া যাবে না।’ পাশাপাশি হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ বা আইপিডিতে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্সরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য। তবে আইপিডিতে মহিলা রোগী থাকলে, তাঁদের যেন ছবি তোলা না হয়, শালীনতা রক্ষা পায়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
গত শুক্রবার তিন দিনের জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিন দিনে জেলার চারটি মহকুমায় বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। রবিবার তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরের জেলার দু’টি স্বাস্থ্য জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিক, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী-সহ অন্যান্য আধিকারিককে নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জেলার হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা সঠিক আছে কি না, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা– সব কিছুই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হাসপাতালগুলি পরিদর্শন করলাম। একটা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে আমরা সাবধান করলাম। আগামী দিনে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স থেকে কর্মীদের পরিবর্তন না হলে এবং হাসপাতাল থেকে দালাল চক্র বন্ধ না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’