• ‘একটু একটু করে বলব...’ তসলিমার অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠতে না পারা নিয়ে মুখ খুললেন জয় গোস্বামী
    এই সময় | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • শনিবার রবীন্দ্রসদনে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দর্শকাসনের বিষোদ্গার ও আপত্তির মুখে পড়তে হয় প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামীকে। তসলিমা নাসরিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয় গোস্বামীকে বক্তব্য রাখার জন্য ডাকার পর দর্শক আসন থেকে তীব্র ‘ধিক্কার-ধ্বনি’ ধেয়ে আসে। ফলে মঞ্চে না উঠে নিজের আসনেই ফিরে আসতে বাধ্য হন কবি। ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময়। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন জয়। এত অপমান সত্ত্বেও তসলিমার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবি স্পষ্ট বলেছেন লেখিকা ডাকলে তিনি আবারও যাবেন। একইসঙ্গে লেখালিখি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গেও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তিনি।

    ‘ঘুমিয়েছ ঝাউ পাতা’-র কবি জানান, গত ১৫ বছরে তসলিমাকে ফেরানোর বিষয়ে তিনি সোচ্চার হননি, তাই দর্শকদের ক্ষোভ অন্যায় নয়। কিন্তু এই সময় অনলাইন তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিল, মঞ্চে উঠে তিনি ঠিক কী বলবেন বলে ভেবেছিলেন? বিগত ১৫ বছর ধরে মুখে কুলুপ এঁটে থাকার জন্য কি তিনি সকলের সামনে তসলিমার কাছে ক্ষমা চাইতেন? কবি বলেন, ‘আমার তো মঞ্চে থাকার অধিকার ছিল না। কারণ, গত ১৫ বছরে একটি বারের জন্যেও তসলিমাকে ফেরাতে কোনও কথাই আমি বলিনি। এই কথাটাই আমি স্টেজে দাঁড়িয়ে বলতাম এবং ওঁর জন্য একটি কবিতা লিখেছিলাম, সেটিই পাঠ করতাম।’ একইসঙ্গে কবি অনুরোধ করেছেন, তাঁর অপমানের প্রতিবাদে তসলিমা কেন সোচ্চার হলেন না, তা নিয়ে যেন লেখিকাকে কোনও ভাবে বিব্রত না করা হয়।

    এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন তসলিমা নাসরিন। কবির কথায়, হট্টগোলের সময় তসলিমার মুখ পাংশু হয়ে গিয়েছিল। রবিবার বাংলা অ্যাকাডেমি-তে আয়োজিত একটি সাক্ষাৎকারে লেখিকা জানান, প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামীর প্রতি দর্শকদের এই আচরণে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন। এটা তাঁরও অপমান। তসলিমার কথায়, ‘আমি আমার ভাষণে বাক্‌স্বাধীনতার কথা বলেছি, আমাদের ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের সবাইকে কথা বলতে দিতে হবে। কারও কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।’

    এরপরেই জয় গোস্বামী জানান, বেশ কয়েক বছর আগেই তিনি মুদ্রণ জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁর লেখা কবিতা কোথাও ছাপা হয় না। কবির দাবি, তিনি নিজে গিয়ে প্রকাশন সংস্থাগুলিকে বলে এসছিলেন, যেন তাঁর লেখা কোথাও ছাপা না হয়। কিন্তু কেন? জয় গোস্বামীর বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে হুমকি প্রথার প্রমাণ ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। সাহিত্যক্ষেত্রেও যে একইরকম হুমকি প্রথার প্রচলন শুরু হয়েছিল। আঁচ করতে পেরে আমি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। তবে আজ এটুকুই... একবারে সবটা নয়। একটু একটু করে বলব।’

  • Link to this news (এই সময়)